খুলনা, বাংলাদেশ | ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  হারানো বিজ্ঞপ্তি-বাগেরহাটে শিশু উদ্ধার, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ
  দুই ভূমি অফিসে হঠাৎ হাজির প্রতিমন্ত্রী, দেখতে পেলেন নানা অনিয়ম
  খুলনায় প্রতিপক্ষের হামলায় “হাসান” নামে যুবক নিহত
  প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার আসছেন ১৩ জুন
  ডুমুরিয়ায় ২০০ বিঘার ঘেরে বাগদা চিংড়ির মড়ক: মৎস্য বিভাগের জরুরী পরিদর্শন ও পরামর্শ
  মৌলভী চা বাগানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার 
  জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ডুমুরিয়ায় ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬’ অনুষ্ঠিত
  ইউপি নির্বাচন ঘিরে ছাগলাদাহে মাঠে মোস্তাক আহমেদ, গণসংযোগে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া
  শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ, আদালতে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না
  ডুমুরিয়ায় সরকারি জায়গার মাটি কাটার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

হামে শিশু মৃত্যু : ড. ইউনূস ও নুরজাহান বেগম সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা খারিজ

[ccfic]

ডেস্ক :

হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।সোমবার (৮ জুন) ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে এ মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল।মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান, আদালত বলেছেন, আসামিরা সরকারের অংশ ছিলেন। মামলায় বাদির আনিত ধারা আসামিদের উপর প্রযোজ্য নয়। বিদায় তিনি মামলাটি খারিজ করে দেন।আইনজীবী জানান, আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ। তিনি বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।মামলায় আরও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন— স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা উচ্চশিক্ষিত ও নোবেল বিজয়ী হলেও তার দায়িত্বে চরম অবহেলা ও উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এ দেশের শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশুর জীবন বিপন্ন হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা হত্যাকাণ্ডের শামিল। মামলার অন্যান্য আসামিরা তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বে অবহেলা করে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামের ভ্যাকসিন যথাসময়ে আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং তাদের মৌলিক অধিকার হরণের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে টিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাম-রুবেলা টিকা অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত এই টিকা প্রদানের ফলে বিশ্বব্যাপী হাম ও রুবেলায় মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলা টিকা আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় টিকা সংকট তৈরি হয়।আবেদনে দাবি করা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স ২০ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জানান, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এছাড়া টিকা আমদানির বিদ্যমান ব্যবস্থা বন্ধ না করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ করা হয়। এর ফলে দেশে বিপুলসংখ্যক শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা থেকে বঞ্চিত হয় এবং হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ সময় প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।আবেদনে আরও বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বহু শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারকে চিকিৎসার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে এবং রাষ্ট্রকেও বিপুল ব্যয় বহন করতে হয়েছে। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকা সরবরাহের ব্যবস্থা নিলেও সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তার দায় সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারেন না। তাই শিশুদের জীবন বিপন্ন হওয়ার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT