খুলনা, বাংলাদেশ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ধামইরহাটে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
  নওগাঁ শহরে চোরাইকৃত এসির তামারসহ যুবক গ্রেফতার
  বরগুনায় ডাকবাংলোতে মা ও দুই সন্তান এর মরদেহ উদ্ধার
  নারায়ণগঞ্জে আইন কলেজের আধুনিক ভবন নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ.
  ‎ডুমুরিয়ায় গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত
  চুকনগরে অসহনীয় যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে সোচ্চার ‘নিরাপদ খুলনা চাই’
   দাকোপে আলোচিত মামলার আসামী গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ ও স্বারকলিপি প্রদান
  ‎জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে এদেশ স্বাধীন হতো না,,,,,,,,, এমপি লবি
  নওগাঁর ধামইরহাটে পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি পরেশ  দেবনাথের জন্মদিনে শুভেচ্ছার জোয়ার

রাষ্ট্রীয় টাকা অবৈধ আত্মসাৎ, ব্রি কুষ্টিয়ার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান দেওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

[ccfic]

মোঃ মমিন আলী স্টাফ রিপোর্টার

বিশেষ অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় যেন অনিয়ম ও দুর্নীতির এক সুরক্ষিত দুর্গে পরিণত হয়েছে। এই কার্যালয়ের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: মাহাবুবুর রহমান দেওয়ানের বিরুদ্ধে উঠেছে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসকল অবৈধ সুযোগ-সুবিধা ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য ধরে রাখতেই তিনি দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই কার্যালয়ে খুঁটি গেড়ে অবস্থান করছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে তিনি দিনের পর দিন এসব অপকর্ম চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।অনুসন্ধানের সবচেয়ে চমকপ্রদ ও গুরুতর তথ্যটি বেরিয়ে এসেছে এই কর্মকর্তার অবৈধ আয়ের টাকা রাখার গোপন কৌশল থেকে। জানা গেছে, মাহাবুবুর রহমান দেওয়ান তার এই বিশাল অবৈধ আয়ের টাকা জমা রাখছেন বহু আগে সমাপ্ত হয়ে যাওয়া ‘স্পাইরা’ (SPIRA) প্রকল্পের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। একটি সরকারি প্রকল্প শেষ হওয়ার পর তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল থাকা এবং সেখানে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি হলেও, ক্ষমতার জোরে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টটিকে তিনি নিজের অবৈধ টাকা গচ্ছিত রাখার নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।শুধু প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ-ই নয়, উচ্চশিক্ষার নামেও সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ব্রি-এর রাইস ফার্মিং সিস্টেম বিভাগের নিয়মিত গবেষণা কার্যক্রম থেকে দীর্ঘদিন দূরে থেকে তিনি সরকারের লাখ লাখ টাকা বৃত্তি (Stipend) গ্রহণ করেছেন পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বছরের পর বছর পার হলেও এবং সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও তিনি আজ পর্যন্ত পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে পারেননি। সংশ্লিষ্টদের মতে, গবেষণার চেয়ে আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের দিকেই তার মনোযোগ বেশি থাকায় এই ব্যর্থতা।এর আগে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: মাহাবুবুর রহমান দেওয়ানের নেতৃত্বে কার্যালয়ের দুই বিজ্ঞানী দিল আফরোজ ও নাহিদা আক্তার এবং একজন নিয়মিত শ্রমিক আবু হানিফ মিলে একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ চক্র গড়ে তুলেছেন।কুষ্টিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের যে সার ও কীটনাশক প্রণোদনা দেওয়ার কথা, তা এই চক্রটি নিজেদের পকেটে ভরছে। উদাহরণস্বরূপ:পার্টনার প্রকল্প: এই প্রকল্পে প্রতি ৩ বিঘার প্রদর্শনীতে বরাদ্দ ৯,০০০/- টাকা। নিয়ম অনুযায়ী সাইনবোর্ড বাবদ ১,০০০/- টাকা এবং দুটি খুঁটি বাবদ ১৬০/- টাকা বাদ দিয়ে বাকি টাকা কৃষকদের সার ও কীটনাশক হিসেবে দেওয়ার কথা। কিন্তু কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৭,০০০/- টাকা। অর্থাৎ, প্রতি প্রদর্শনী থেকে ২,০০০/- টাকা সরাসরি কেটে রাখছে এই সিন্ডিকেট।যারা কোনো কারণে চাষ করতে পারেননি, তাদের আরও কম টাকা দিয়ে মূল ৯,০০০/- টাকার ভাউচারে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।২০২৩-২০২৬ অর্থবছরে কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলায় মোট ৫৬৮টি প্রদর্শনী দেওয়ার কথা। সেই হিসাবে মোট বরাদ্দ (৫৬৮ × ৯০০০) = ৫১,১২,০০০/- টাকা। এই বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ থেকে প্রতি প্রদর্শনীতে ২,০০০/- টাকা করে কম দিয়ে এই চক্রটি কেবল এই একটি প্রকল্প থেকেই (৫৬৮ × ২০০০) = ১১,৩৬,০০০/- টাকা আত্মসাৎ করছে।একইভাবে ব্রি-তে চলমান এলএসটিডি প্রকল্প, হাইব্রিড প্রকল্প এবং সরকারের রাজস্ব খাতের অন্যান্য প্রণোদনার টাকাও এই চক্রটি একইভাবে লুটে নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সত্যতা পাওয়া গেছে।বিগত ১২ বছর ধরে কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির প্রণোদনার টাকা এবং সরকারি ফান্ড লুট করে এই চক্রটি নিজেদের নামে বিপুল জায়গা-জমি, ডুপ্লেক্স বাড়ি এবং দামি গাড়ি কিনেছে ও কেনার পরিকল্পনা করছে, যার সত্যতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির সূত্রে জানা গেছে।লাখ লাখ টাকার সরকারি বৃত্তি নিয়েও পিএইচডি সম্পন্ন করতে না পারা এবং সমাপ্ত প্রকল্পের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অবৈধ টাকা গচ্ছিত রাখার মতো গুরুতর অপরাধের পরও এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া দেশের কৃষি খাত ও সুশাসনের জন্য এক বড় ধাক্কা। সাধারণ কৃষক ও সচেতন মহলের এখন একটাই প্রশ্ন—এই দুর্নীতিবাজ চক্রের কি আসলে সরকারের কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই? তদন্তের স্বার্থে এবং কৃষকদের সুরক্ষায় এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT