খুলনা, বাংলাদেশ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  যশোরের কেশবপুরে পিএফজির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত
  মেটারনিটি হসপিটালের ২য় তলার ছাদ ঢালাই উপলক্ষে দোয়া মাহফিল
  শিশু ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কয়রায় বন্ধুসভার মানববন্ধন
  শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদে খুলনায় ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ সমাবেশ
  সুন্দরবনে কোস্ট গার্ড ও বনদস্যুর গুলিবিনিময়, অপহৃত ২১ জেলেসহ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
  বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধান ও দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক
  ধর্ষণের শাস্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের
  ইরান যুদ্ধের কারণে ছেলের বিয়েতে যেতে পারছেন না ট্রাম্প
  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য রাসুলের (সা.) চরম অবমাননা: জামায়াত
  স্বাধীনতার পর কেশবপুর থানায় প্রথম নারী ওসি”র যোগদান 

সংঘর্ষে উত্তপ্ত চট্টগ্রাম, আহত ৩০

[ccfic]

ডেস্ক :

চট্টগ্রামে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আটক অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে।এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে সাধারণ মানুষ, পুলিশ সদস্য ও দুই সংবাদকর্মীসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৫টার দিকে নগরীর বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।অভিযুক্ত মনির হোসেন (৩০) বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা। বর্তমানে বাকলিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার আলী স্টোর বিল্ডিংয়ে ভাড়া থাকতেন।ধর্ষণচেষ্টার শিকার চার বছরের শিশু ফারিয়া বাকলিয়া থানার নূর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মোহাম্মদ সাগর পেশায় একজন গাড়িচালক এবং মা একটি গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার পর থেকে শিশুটির পরিবার চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেশনের দোকানের কর্মচারী চার বছরের এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা অভিযুক্ত যুবক যে ভবনে অবস্থান করছিল, সেটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।একপর্যায়ে অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি আটকে দেয় এবং সড়কে অবস্থান নেয়। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও আশপাশের সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ চট্টগ্রামমুখী যান চলাচল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, গ্যাস গান ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা আবারও অগ্রসর হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক্সেস রোডের দিকে সরে যায়। পরে কয়েকজন সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্য আটকা পড়েন। প্রায় ৪০ মিনিট পর রাত ১২টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন দুই সাংবাদিক। আহতরা হলেন- চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সাংবাদিক মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান। চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রকাশক আয়ান শর্মা জানান, লাইভ সম্প্রচারের সময় পুলিশের ছোড়া গুলিতে মামুনের কোমরে এবং নোবেলের হাত ও পায়ে আঘাত লাগে। প্রথমে তাদের চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।বিক্ষোভ চলাকালে উত্তেজিত জনতা একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় এবং কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া একটি কমিউনিটি সেন্টারেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসেন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জনতা যাতে তাকে মবের মাধ্যমে আক্রমণ করতে না পারে, সে কারণে পুলিশ ভবনের ভেতরে অবস্থান নিয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও গ্যাস গান ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।ট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নেন। এসময় তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT