
ডেস্ক :
উন্নত জীবন ও ভালো বেতনের আশায় জীবিকার তাগিদে রাশিয়া গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন মাদারীপুরের সুরুজ কাজী (৩০) নামের এক যুবক। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগছড়া গ্রামের শাহাবুদ্দিন কাজীর ছেলে।অভিযোগ রয়েছে, দালালের ফাঁদে পড়ে রাশিয়ায় গিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখ সারিতে ড্রোন হামলা ও মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন তিনি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সুরুজের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার ও পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সুরুজের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন একই গ্রামের বাসিন্দা ও তার সহপাঠী সাব্বির মাতুব্বর। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাশিয়া থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান সাব্বির। সেই বার্তায় তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা তুলে ধরার পাশাপাশি ড্রোন হামলা ও মাইন বিস্ফোরণে সুরুজসহ একাধিক বাংলাদেশি যুবকের নির্মম মৃত্যুর বিষয়টি তাদের পরিবারকে জানান।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে সুরুজ কাজীকে রাশিয়ার একটি কোম্পানিতে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখান মাদারীপুর সদর উপজেলার খাগছড়া গ্রামের স্থানীয় দালাল দিলু মাতুব্বর ও একই এলাকার ঢাকায় অবস্থানরত জাফর মাতুব্বর। দালালদের আশ্বাসে রাশিয়া যেতে পরিবার ৮ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের হাতে তুলে দেয়। পরে জাফর মাতুব্বরের এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় পাড়ি জমান সুরুজসহ গ্রামের আরও একাধিক যুবক। সেখানে পৌঁছানোর পর সুরুজ জানতে পারেন, তিনি দালালের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে চুক্তিতে সই করে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। পরে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখ সারিতে।নিহত সুরুজের বড় বোন শারমিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার ভাইকে গ্রামের দিলু দালাল আর ঢাকার জাফর দালাল দুইজন মিলে কোম্পানির চাকরি দেওয়ার কথা বলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আমি এসব দালালদের ফাঁসি চাই। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা এখন দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুরুজের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।এ ব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, ‘রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে সুরুজ নামে এক যুবক মারা গেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার মরদেহটি কীভাবে দেশে আনা যায় সে বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। তবে তিনি কীভাবে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে ঢুকে পড়লেন তা আমাদের জানা নেই। প্রবাসী অধ্যুষিত এই এলাকা থেকে অনেকেই রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন। আমরা মনে করি এটি একটি ফাঁদ। এই ফাঁদে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।’
