
নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদহ বাজারে ঐতিহ্যবাহী বুড়িমার গাছতলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহোৎসব ও দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধর্মীয় আচার, মানত, সংকীর্তন ও লোকজ মেলার আয়োজনে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো এই আয়োজন প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ শনিবার অথবা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বুড়িমার গাছতলাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বাস রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের ধারণা, এখানে এসে কেউ মানত করলে তার মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন এই তীর্থস্থানে।সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল বটগাছের নিচে স্থাপিত বুড়িমার প্রতিমায় ভক্তরা সিঁদুর মাখিয়ে পূজা-অর্চনা করছেন। কেউ মিষ্টি, ফিরনি ও প্রসাদ বিতরণ করছেন, আবার কেউ পরিবার-পরিজনের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন। মানত পূরণের আশায় অনেকে পাশের চিত্রা নদীতে পূণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে যান।স্থানীয় বাসিন্দা শ্রীবাস বলেন, “মানুষ এখানে বিশ্বাস নিয়ে আসে। অনেকের মানত পূরণও হয়। পরে তারা আবার এসে বুড়িমার উদ্দেশে বিভিন্ন জিনিস উৎসর্গ করে যায়।”এদিকে মহোৎসবকে কেন্দ্র করে বসে বৃহৎ বৈশাখী মেলা। মেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান বসে। সেখানে কুলা, ঝুড়ি, বাঁশ-বেতের তৈরি সামগ্রী, হস্ত ও কুটির শিল্পের বিভিন্ন পণ্যসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা জিনিস বিক্রি হয়। শিশুদের খেলনা, মিষ্টি ও বিভিন্ন প্রসাধনীর দোকানেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।মেলায় আসা শিশু আবু ছাদ জানায়, সে ছোট বোনের জন্য কিছু জিনিস কিনেছে এবং মেলায় এসে তার খুব ভালো লাগছে।দিনভর ঢাক-ঢোল, করতাল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে ‘বুড়িমা’র জয়গান ও সংকীর্তনে মুখর থাকে পুরো প্রাঙ্গণ। আয়োজকদের দাবি, নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছে এবারের উৎসবে।স্থানীয়দের মতে, বুড়িমা ছিলেন আধ্যাত্মিক জ্ঞানসম্পন্ন এক মহান যোগী মাতা। অসহায় মানুষের সহায়তা, রোগমুক্তি এবং মানুষের মানসিক শান্তির জন্য তার অলৌকিক ক্ষমতার নানা গল্প এখনো প্রচলিত রয়েছে এলাকায়। সে কারণেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এখানে এসে প্রার্থনা করেন।উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ও বুড়িমার গাছতলা কমিটির নির্বাহী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অরবিন্দ প্রসাদ সাহা বলেন, “এটি সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা। এখানে সব ধর্মের মানুষ একত্রিত হয়। শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় আমরা আনন্দিত।”এদিকে আজিজুল বারী হেলালর দিকনির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে মহোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নীলা ও থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। মেলায় উপজেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
