
খুলনা প্রতিনিধি |
খুলনার খালিশপুরে একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্র করে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠলেও অভিযুক্ত পক্ষ ও স্থানীয়দের দাবি—ঘটনাটি ভিন্ন এবং অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন। এ নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে উত্তেজনা ও বিতর্ক।অভিযোগকারী শেখ মেজবাহ আল মুলক (৪২) গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিউজপ্রিন্ট মিল গেট এলাকায় অবস্থিত ‘বাবুল টি স্টল’-এ তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে খালিশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।তবে অভিযুক্ত দোকান মালিক বাবুল (৫০) ও মিথুন (৩০) অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি অভিযোগে বর্ণিতভাবে ঘটেনি। তাদের দাবি, সেদিন দোকানে চেয়ার নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মেজবাহ আল মুলক নিজেই উত্তেজিত হয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাকে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়।বাবুল, মিথুন ও দোকানে থাকা ক্রেতারা বলেন, ঘটনাটি অভিযোগে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবে তা সঠিক নয়। তারা দাবি করেন, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে তা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।তাদের আরও দাবি, দোকানটিতে গাঁজা বা অন্য কোনো মাদকসেবন, কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা কিংবা অনলাইন জুয়ার কোনো কার্যক্রম হয় না। এসব অভিযোগকে তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।এদিকে, ১৯ এপ্রিল রাতে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবু সালেক ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগকারী শেখ মেজবাহ আল মুলক সেখানে উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে।এ ঘটনায় খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এসআই ইউসুফকে অবগত করেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবু সালেক।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এর আগেও মেজবাহ আল মুলকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, খালিশপুর আর লাইন জামে মসজিদের ইমামকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।এ ছাড়া, ১৯ এপ্রিল এশার নামাজের পর মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে বলে তারা জানান। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।আরও জানা যায়, পূর্বে মেজবাহ আল মুলকের পিতা খালিশপুর থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক বিষয় নিয়েও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার হামলার অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মেজবাহ আল মুলকের আচরণ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তার কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় সামাজিক পরিবেশ ও মান-সম্মানের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা ও এলাকাবাসী।
