খুলনা, বাংলাদেশ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ‎ডুমুরিয়ায় তিন বিলের পানি নিষ্কাশনে স্লুইস গেটের পলি অপসারণ স্বেচ্ছাশ্রমে
  কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার
  মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের হাতে ফুটবল বিতরণ করলেন যুবনেতা শেখ হুমায়ূন কবির
  লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে নিরাপদ খুলনা চাই-এর প্রস্তুতি সভা
  অসুস্থ মায়ের সুস্থতা কামনায় সবার কাছে দোয়া চাইলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহাগ
  ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের উন্নয়নের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোল্লা আবরার হোসেন সৈকতের দোয়া ও সমর্থন কামনা
  ১১ বছরের পথচলায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: উৎসবের সঙ্গে নতুন স্বপ্নের অঙ্গীকার
  খর্নিয়া ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন, তৃণমূলের আলোচনায় বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান
  দাকোপে ৩ দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন।
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম

৩০ টাকার সবজি কিভাবে সেঞ্চুরি ছাড়ায়?

[ccfic]

নিউজ ডেস্ক: শীতের হাওয়া বইতে শুরু করেছে ঠিকই, কিন্তু বাজারে নেই স্বস্তি। শীতকালীন সবজির দাম যেন উল্টো ঋতুর বার্তা দিচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই ভোক্তা ও কৃষকের মুখে শুধু হতাশা। আর এই ‘উত্তপ্ত’ বাজারের আড়ালে সবচেয়ে আলোচিত শব্দ-মধ্যস্বত্বভোগী।দরদামের আগুনে পুড়ছে ভোক্তাঢাকার কারওয়ান বাজারে দিনের শুরুটা এখন হতাশা দিয়ে। কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন সবজি বাজারে এলেও দামে কমার কোনো ইঙ্গিত নেই। ফুলকপি, বেগুন বা শিম-সবকিছুর দাম আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে ঢুকতেই সংসারের হিসাব গরম হয়ে ওঠে। এক ঝুড়ি সবজি কেনার আগেই টাকার হিসাব শূন্যের কোঠায় পৌঁছে যায়।পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে চিত্র আরও ভয়াবহ। ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনতে গেলে প্রতি কেজিতে গুনতে হয় অন্তত ২০ টাকা বেশি। তারা বলছেন-পাইকারি বাজারের সিন্ডিকেটের হাতেই তারা বন্দি। দাম বাড়িয়ে দেয় এই সিন্ডিকেট, আর সেই আগুনের আঁচ লাগে ভোক্তার পকেটে।কৃষকের ক্ষেত থেকে ভোক্তার ঝুড়ি-সিন্ডিকেটের ছয় ধাপযেখানে সবজি উৎপাদন হয়, সেখানে দাম একেবারেই কম-এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সমস্যা হলো হাতবদল। মাঠ থেকে শুরু করে শহরের বাজার পর্যন্ত সবজি বদলায় ৫-৬ বার। আর প্রতিটি ধাপেই দাম বাড়ে ৫ থেকে ২০ টাকা।সবজির যাত্রাপথ-কৃষকের ক্ষেতস্থানীয় ফড়িয়াআড়তদূরপাল্লার পরিবহনকারীঢাকার পাইকারখুচরা বিক্রেতাপ্রতিটি ধাপে কমিশন, পরিবহন, মুনাফা-সব কিছুর অজুহাতে বাড়ানো হয় দাম। ফলে গ্রামের বাজারে ৩০ টাকার সবজি ঢাকায় এসে সহজেই ছাড়িয়ে যায় ১০০ টাকার ঘর।কৃষক-গল্পের সবচেয়ে অবহেলিত চরিত্রসবজি যতই দাম বাড়ুক, কৃষকের ঘরে সে অনুপাতে টাকা ঢোকে না। মানিকগঞ্জের কৃষক মনিরুজ্জামান বললেন, “শ্রম আমাদের, ঝুঁকি আমাদের-কিন্তু লাভটা পায় ফড়িয়ারা।” দেশের লাখো কৃষকের গল্প একই। জমিতে ঘাম ঝরালেও ন্যায্য দাম থেকে তারা বঞ্চিত।সিন্ডিকেট লাভ তোলে, কৃষক লোকসান গোনে-দেখার কেউ নেই।বৃষ্টি, সরবরাহ ও বাজার-ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যাব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় ফসল ঠিকমতো হয়নি। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তবে আরেক মাস পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে-এমন আশা তাদের।তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না ক্রেতারা। দাম কমার প্রতিশ্রুতি আসে প্রতি বছর, কিন্তু বাজারের বাস্তবতা একই থাকে-উচ্চ দাম, দীর্ঘশ্বাস আর দীর্ঘস্থায়ী সিন্ডিকেট।শেষ কথায়-সমস্যা একটাই: মধ্যস্বত্বভোগীর মুনাফাশীতের সবজি সস্তা হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো। কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত, ভোক্তা অতিরিক্ত দাম দিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে-আর সব সুবিধা ভোগ করে মধ্যস্বত্বভোগীরা।ফলে গ্রামের মাঠের ৩০ টাকার সবজি শহরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলে-এটাই এখনকার কঠিন বাস্তবতা।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT