খুলনা, বাংলাদেশ | ১৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ৭ বছরের আইনি লড়াই ও মানসিক যন্ত্রণা শেষে খালাস পেলেন খাদ্য পরিদর্শক ইলিয়াস
  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিট প্রকল্পের আওতায় ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত:
  পাইকগাছায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ০১ ব্যাচের রজত জয়ন্তী উদযাপিত:
  ঈদগাঁওতে পাঠদান বন্ধ রেখে বেতন উত্তোলন 
  
  
  মক্কা-মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে হামলার প্রতিবাদে কেশবপুরে মানববন্ধন
  ডুমুরিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা সরদার আবু সালেহ আটক, জেলহাজতে এই মামলায় মোট ৫জন।
  ডুমুরিয়ার রংপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও অসচ্ছল পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা

৭ বছরের আইনি লড়াই ও মানসিক যন্ত্রণা শেষে খালাস পেলেন খাদ্য পরিদর্শক ইলিয়াস

[ccfic]

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):দীর্ঘ সাত বছরের আইনি লড়াই ও চরম মানসিক যন্ত্রণা শেষে অবশেষে দুর্নীতির ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ বেকসুর খালাস পেয়েছেন খুলনা জেলার ডুমুরিয়া খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি (খাদ্য পরিদর্শক) মো. ইলিয়াস হোসাইন। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আদালত মামলার নথি ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি ও বেকসুর খালাস প্রদান করেন। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে সত্যের জয় হয়েছে এবং তার পরিবারে দীর্ঘ সাত বছর পর ফিরে এসেছে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ও আনন্দ।খালাসপ্রাপ্ত খাদ্য পরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসাইন বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানার পশ্চিম সরাইল গ্রামের মো. আ. কাদের বিশ্বাসের ছেলে।মামলার প্রেক্ষাপট ও মূল ঘটনা – ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), খুলনার তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়ার দায়ের করা ১ লক্ষ টাকার একটি ঘুষ মামলায় ইলিয়াস হোসাইনকে আটক করা হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই ইলিয়াস হোসাইন ও স্থানীয় খাদ্য গুদামের শ্রমিকদের দাবি ছিল—এটি কোনো ঘুষ গ্রহণের ঘটনা ছিল না, বরং ডুমুরিয়ার আঠার মাইল এলাকার ‘জামান অটো রাইস মিল’-এর মালিক মো. কামরুজ্জামানের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ষড়যন্ত্রের ফল।প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সময়ে ডুমুরিয়া খাদ্য গুদামে বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলায় মালামালবাহী ট্রাক সরাসরি গুদামের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিল না। ফলে দূর থেকে মালামাল হাতে বহন করে আনতে হয়, যার কারণে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ খরচ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। রাইস মিল মালিক কামরুজ্জামানের কাছে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা জমা হতে হতে লক্ষাধিক টাকায় দাঁড়ায়। কিন্তু উক্ত বকেয়া টাকা পরিশোধ না করে তিনি তালবাহানা শুরু করলে শ্রমিক, খাদ্য পরিদর্শক ও মিল মালিকের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।পরবর্তীতে পাওনা টাকার দাবিতে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও ধর্মঘটে নামলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা আদায়ের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় মিল মালিক কামরুজ্জামান খাদ্য পরিদর্শকের ওপর চরম প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে শ্রমিকদের বকেয়া টাকা পরিশোধের বাহানায় এসে কৌশল অবলম্বন করে বিষয়টিকে ‘ঘুষের টাকা’ হিসেবে সাজিয়ে দুদকের মাধ্যমে ফাঁদ পাতা হয়।আইনি লড়াই ও সত্যের জয় ঘটনার পরপরই তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুজিত কুমার মুখার্জি ঘটনার সুষ্ঠু সত্যতা তুলে ধরে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং ইলিয়াস হোসাইনের পক্ষে সুপারিশ প্রদান করেন।দীর্ঘ সাত বছর মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকার পর, পেশকৃত কাগজপত্র, বকেয়া মজুরির নথি ও সাক্ষীদের বিস্তারিত সাক্ষ্যগ্রহণে প্রমাণিত হয় যে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। বিচারক সার্বিক পর্যবেক্ষণ শেষে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে মামলা থেকে খালাস দেন।ভুক্তভোগীর প্রতিক্রিয়া -আদালতের রায়ের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগপ্লুত খাদ্য পরিদর্শক ইলিয়াস হোসাইন বলেন, “একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগে দীর্ঘ ৭টি বছর আমাকে ও আমার পরিবারকে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়েছে। তবে দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞ আদালতে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। সত্যকে যে কখনোই মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না, তা আবারও আদালতের রায়ে প্রমাণিত হলো।”আদালতের এই ন্যায়বিচারে আনন্দ ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ডুমুরিয়া খাদ্য গুদামের সহকর্মী কর্মচারী ও সাধারণ শ্রমিকরাও।শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা ০১৭১১৩৬৪৪৩১

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT