
নিজস্ব প্রতিনিধ : যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তায় ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ঘোষণা দেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দলীয় প্রার্থীরা ট্রাম্পের সম্ভাব্য ব্যয় সংকোচন ও কৌশল নিয়ে আগে থেকেই বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাদের এই শঙ্কা দূর করতে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, রিপাবলিকানদের সহায়তা করতে ঠিক যত অর্থ প্রয়োজন, তিনি তার পুরোটাই ব্যয় করবেন। বর্তমানে তার নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন তহবিলে প্রায় ১০০ কোটি ডলার জমা রয়েছে এবং এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে। এই বিশাল তহবিল থেকে অর্থ খরচ করতে তিনি বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এর আগে রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরে চরম সংশয় কাজ করছিল যে, ট্রাম্প আদৌ দলীয় প্রার্থীদের বৈতরণী পার করতে সুপার প্যাকের অর্থ পর্যাপ্ত পরিমাণে ছাড়বেন কি না। কারণ, ভোটের সময় ঘনিয়ে এলেও সেভাবে দৃশ্যমান অর্থ খরচের প্রমাণ মিলছিল না। তবে ট্রাম্পের এই বড় অঙ্কের অনুদানের ঘোষণার পরও বিশ্লেষকদের মনে কিছু প্রশ্ন থেকেই গেছে। আগামী ৩ নভেম্বর ভোটের আর মাত্র দুই মাস বাকি থাকায় শেষ মুহূর্তে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলে নির্বাচনে আদতে কতটা প্রভাব ফেলা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। কারণ, এই স্বল্প সময়ে অনেক ভোটারই ইতিমধ্যে নিজেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। পাশাপাশি, শেষ মুহূর্তে এসে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও ফাঁকা স্লট পাওয়াটাও বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে, রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের অন্যতম বড় ও স্পর্শকাতর ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচন। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্যাক্সটন লড়ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে। এই লড়াইয়ে প্যাক্সটনকে সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিনকে পাশ কাটিয়ে প্যাক্সটনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা তৎকালীন সময়ে সিনেটের শীর্ষ রিপাবলিকান নেতাদের ইচ্ছার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।
শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচনই নয়, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তার এই রাজনৈতিক তহবিল থেকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করা হতে পারে। মূলত ওই নির্বাচনেই ভোটাররা হোয়াইট হাউসে তার উত্তরসূরি নির্বাচন করতে ভোট দেবেন।
