
মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের তিন গ্রামের ৯ যুবক। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজেন্দ্রবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এক সঙ্গে ৬ যুবকের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গ্রামের সরকারি কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে পৃথক জানাজায় আরও তিনজনকে দাফন করা হয়।এদিকে নিহত যুবকদের শেষ বিদায় জানাতে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে মানুষের ঢল নামে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। এখনও এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস। শোকে স্তব্ধ রাজেন্দ্রবাটি, পাকুড়িয়া ও মুশিদপুর গ্রাম।জানাজায় উপস্থিত হয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, নওগাঁ জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাবিল নওরোজ বৈশাখ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতিন, সহ-সভাপতি মকলেছুর রহমান মকে, নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার আব্দুর রাকিব, ইউপি চেয়ারম্যান নওফেল আলী মণ্ডল ও মোস্তাফিজুর রহমান সুমনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান ও গিয়াস উদ্দিনের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই রাতে মশিদপুর গ্রামের মইনুল ইসলামেরও জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য নওগাঁ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রত্যেক পরিবারকে দাফনের জন্য আরও ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই ফেরিওয়ালা ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তারা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে ভাড়া বাসায় থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তারা চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী একটি রডবোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সোমবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের ছয় যুবকসহ ৯ জনই ছিলেন ভারশোঁ ইউনিয়নের বাসিন্দা।নিহতরা হলেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া (২১), আব্দুল বারিক (২০), বাদশা মিয়া (৩০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮), সাগর হোসেন (২০), পাকুড়িয়া গ্রামের মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২৩), এবং মশিদপুর গ্রামের মইনুল ইসলাম (৩৫)।
