
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা: ডুমুরিয়ায় অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ৭দিন পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গৃহবধূর স্বামীকে আসামি করে মেয়ের পিতা অফুর গাজী বাদি হয়ে সোমবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ এখনও আসামিকে আটক করতে পারেনি।মামলার বিবরণ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের মিকশিমিল আমডাংগি এলাকার মৃত আতিয়ার গাজীর ছেলে জনি গাজীর সঙ্গে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের শাহপুর এলাকার অফুর গাজীর মেয়ে বিথী বেগমের (২৩) বিগত ৭ বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি চার বছর ও দুই বছরের দুটি সন্তানও রয়েছে। জনি খর্ণিয়ায় একটি তেল পাম্পে কর্মচারীর কাজ করেন। অভাব অনটনের সংসারে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে স্ত্রীর সাথে তার প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। তারই জের ধরে ঘটনার দিন গত ৫ মে মঙ্গলবার দুপুরে জনি তার স্ত্রীর উপর অভিমান করে নিজ ঘরের বারান্দায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে বসতঘর পুড়াতে যায়। এ সময় তার স্ত্রী বিথী বেগম বাঁধা দিলে পেট্রোলের বোতল টানাটানির এক পর্যায়ে আগুন ছিটকে বিথীর শরীরে লেগে বিভিন্ন স্থানে ঝলসে যায়। তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা আগুনে দগ্ধ ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে প্রথমে ডুমুরিয়া হাসপাতাল এরপর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পথিমধ্যে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরদিন বিথী বেগমের মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে বুধবার আসর নামাজ বাদ মৃতের বাবার বাড়ি শাহপুরে জানাজা নামাজ শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়। ঘটনার ৭দিন পর ১১ মে রাতে বিথীর বাবা অফুর গাজী বাদি হয়ে জামাই জনি গাজীকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন,যার নং -০৯। ঘটনা প্রসঙ্গে ওসি তদন্ত মোঃ আছের আলী জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে, আসামি গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
