
ডেস্ক :
কলেজে ভাঙচুর ও শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় বহিষ্কৃত সেই ছাত্রদল নেতাদের বুকে টেনে নিলেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ছানা উল্যা।শনিবার (২ মে) বিকেলে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. শাহজাহানের উদ্যোগে অধ্যক্ষের কক্ষে এই ‘ভুল বোঝাবুঝির’ অবসান ঘটে।এর আগে গত বুধবার দুপুরে কলেজটির শিক্ষকেরা যখন মধ্যাহ্নভোজে ছিলেন, তখন ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী কলেজে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এক শিক্ষক আহত হন এবং অন্যদের হুমকি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর শিক্ষকেরা জরুরি সভা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারসহ ৮ দফা দাবি জানান।এরই প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে কলেজের সিনিয়র সহসভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহসভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহসাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয় এবং সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।ঘটনার দুইদিন পর শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে এমপি শাহজাহান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ছাত্রদের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।এ বিষয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ছানা উল্যা বলেন, ‘আজ এমপি স্যার এসেছেন। ছাত্ররা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। তারা তো আমার ছাত্রই, আমি কিছু মনে রাখিনি।’সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, ‘ছাত্ররা যে কাজটি করেছিল তা মোটেও কাম্য নয়। আমি বলব, ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। যারা ছাত্র তারা কেবলই ছাত্র, আর শিক্ষকরা সবার পরম শ্রদ্ধেয়।’এ সময় কলেজের অন্যান্য শিক্ষক এবং ছাত্রদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এমপির এই উদ্যোগের ফলে ক্যাম্পাসে গত কয়েক দিন ধরে চলা অস্থিরতা কাটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
