
ডেক্স :
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে আবারও মাথাচাড়া দিয়েছে জাতিগত সহিংসতা। রাজ্যটির নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ, হামলা ও বিক্ষোভের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আর মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরেও নতুন করে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। আর এসব ঘটনার জেরে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে আরও নাজুক।সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মণিপুরের সেনাপতি জেলায় টি খুল্লেন গ্রামে নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উত্তেজনার মধ্যে গুলি বিনিময় শুরু হয়, এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।মূলত ইম্ফল-উখরুল সড়কে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। গত ১৮ এপ্রিল দুই নাগা বেসামরিক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং নাগা অধ্যুষিত এলাকায় বনধের ডাক দেয়া হয়।সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছিল। নাগরিক সমাজের সংগঠন ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কঠোর বক্তব্য বিনিময় হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, সেনাপতি জেলার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের পেছনে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলের ডাকা বনধ ও সড়ক অবরোধ বাস্তবায়নের চেষ্টা ভূমিকা রেখেছে।এই বনধের ডাক দেয়া হয়েছিল সন্দেহভাজন কুকি বিদ্রোহীদের হামলার প্রতিবাদে। এখন পর্যন্ত হতাহত বা গুলিবিনিময়ের পরিমাণ সম্পর্কে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।মূলত সাম্প্রতিক এই ঘটনা মণিপুরের ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও সামনে এনেছে। দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা মাঝেমধ্যেই সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এ ঘটনায় এখনও কর্তৃপক্ষ কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।এদিকে মেইতেই অধ্যুষিত উপত্যকার পাঁচটি জেলা এবং নাগা অধ্যুষিত উখরুল ও সেনাপতি এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। কারফিউ অমান্য করে গত সোমবার রাতে ইম্ফল পশ্চিম জেলায় মায়াই লাম্বি থেকে কেইশামথং পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার মশাল মিছিল বের করা হয়। তবে নারী অংশগ্রহণকারীদের এই মিছিল সহিংস হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে সূত্র জানিয়েছে।অন্যদিকে মঙ্গলবার মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউনাম খেমচাঁদ সিং থৌবল জেলার ওয়াংজিংয়ে নতুন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস উদ্বোধন করতে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। থৌবল, খংজোম ও ওয়াংজিং থেকে সড়ক অবরোধ করে তার সফরের প্রতিবাদ জানানো হয়। খবরে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান এবং প্রথমে আসাম রাইফেলস ক্যাম্পে নামেন, পরে সড়কপথে যান। তবে ওয়াংজিং টেকচাম লেইকাই এলাকায়, বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভকারীরা তার গাড়িবহর আটকে দেয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং গুলি চালানোরও খবর পাওয়া গেছে। এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দিতে ওয়াংজিং-তেন্থা সিডি ব্লকের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে হাজারও মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে ‘স্বাগত জানাতে’ জড়ো হয়েছিল।সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইউনাম খেমচাঁদ সিং বলেন, পাহাড়ি জেলাগুলোতে সফরে তার কোনও বাধার মুখে পড়তে হয়নি, তবে থৌবল জেলায় তার সফর নিয়ে বিরোধিতায় তিনি বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমি অনেক পাহাড়ি জেলা সফর করেছি, সেখানে কোনও বাধা ছিল না। কিন্তু থৌবল জেলায় আমার সফর নিয়ে যে প্রতিবাদ হচ্ছে, তা আমাকে অবাক করেছে’।তিনি আরও বলেন, যেকোনও মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
