
নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় ‘চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা’—এমন চাঞ্চল্যকর দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।সম্প্রতি ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও কিছু অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে একটি ভিডিওসহ পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, তেরখাদার এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পোস্টগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত দিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তেরখাদা উপজেলার কোনো ইউনিয়নেই ‘রাব্বেল মোল্লা’ নামে কোনো বর্তমান বা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নেই। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, “ফেসবুকে ছড়ানো এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বাস্তবে তেরখাদায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।” তিনি আরও বলেন, “যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।”উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু বলেন, “ভুয়া ভিডিও ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে একটি মহল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এফএম ওহিদুজ্জামান বলেন, “তেরখাদায় ‘রাব্বেল মোল্লা’ নামে কোনো ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমানে নেই, অতীতেও ছিল না। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ভিডিও ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে প্রশাসন ও এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।”উপজেলার ২ নম্বর বারাসাত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কে.এম. আলমগীর হোসেন বলেন, “ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওটি দেখেছি। এটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয় বলে মনে হয়েছে। সম্ভবত প্রযুক্তির সহায়তায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”স্থানীয়দের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মিথ্যা ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা দ্রুত এসব গুজবের উৎস শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
