
ডেস্ক রিপোর্ট: যুদ্ধের ধোঁয়া এখনো মিলিয়ে যায়নি, তবু শান্তির ক্ষীণ আলো খুঁজছে বিশ্ব। আর সেই আলোয় চোখ রেখে আজ শনিবার বিশ্ববাসীর দৃষ্টি স্থির ইসলামাবাদে। পাহাড়ঘেরা নিস্তব্ধ এ শহর যেন হঠাৎই হয়ে উঠেছে বিশ্ব কূটনীতির মঞ্চ। কঠোর নিরাপত্তা, সুনসান সড়ক আর চাপা উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের বিখ্যাত সেরেনা হোটেলে বসছেন শান্তির আশায় সংঘাতে জড়ানো দুপক্ষের প্রতিনিধিরা। যাদের ৪০ দিনের যুদ্ধের তাণ্ডবে বহু রক্তপাত, অগ্নি আর জ্বালানি সংকটে কাঁপিয়ে দিয়েছে পৃথিবীকে। বন্ধ হয়ে গেছে অর্থনীতির ধমনি হরমুজ প্রণালি, টালমাটাল অর্থনীতি। এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের উচ্চঝুঁকির কূটনীতির জোরে বসতে যাচ্ছে প্রতীক্ষিত বৈঠক—যেখানে প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি নীরবতা পর্যন্ত হয়ে উঠতে পারে ইতিহাসের মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত। তবে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি, লেবাননে হামলা আর গভীর অবিশ্বাসের কালো ছায়া আলোচনাকে ঘিরে রেখেছে এক গভীর অনিশ্চয়তায়। তবু বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা—এ শহরেই লেখা হোক সংঘাত থেকে সহাবস্থানের নতুন কোনো অধ্যায়।সংঘাত, যুদ্ধবিরতি, অবিশ্বাস আর অনিশ্চয়তার দোলাচলে যখন প্রতিটি বিষয় দুলছে, তখন শনিবার পাকিস্তানের সেরেনা হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা এবং লেবাননে ইসরায়েলের বাড়তি হামলার কারণে এ সমঝোতা এরই মধ্যে চাপের মুখে রয়েছে।ইরান যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল ছাড়া উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি রপ্তানি অঞ্চল এবং বাণিজ্য, পর্যটন ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র অস্থির হয়ে উঠেছে। পরবর্তী সময়ে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। তবে যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাদের জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়নি তেহরান। এর পর থেকেই মূলত বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয় ও জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদের সবুজ-ঘেরা এলাকায়, মারগাল্লা পাহাড়ের পাদদেশে জড়ো হবেন।কখন ও কোথায় বৈঠক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানোর পর এ বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ৮ এপ্রিল জানিয়েছে, আলোচনা সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রতিনিধিদলের কিছু সদস্য ইসলামাবাদে থেকে যেতে পারেন বা পরবর্তী দফার বৈঠকে ফের ফিরে আসতে পারেন।দুই পক্ষের কঠোর অবস্থান কিছুটা নমনীয় হতে পারে ও হরমুজ প্রণালি ফের চালুর বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব। তবে শান্তির নিশ্চয়তা দেবে—এমন কোনো একক দেশ পাওয়া কঠিন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিশ্লেষক সাহার খান বলেন, যুদ্ধবিরতি ধরে রাখা ও আলোচনাতে বসাটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে হামলা বন্ধে বাধ্য করতে পারে, তবে সেটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
