
ডেস্ক: যুদ্ধবিরতির অভিযোগে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহ এ হামলা চালিয়েছে।বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল)আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের কথিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে উত্তর ইসরায়েলের মানারা বসতিতে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-আমেরিকার আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই জবাব অব্যাহত থাকবে।এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, লেবানন থেকে ছোড়া একটি রকেট প্রতিহত করা হয়েছে।এরও আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হন।বুধবার (৮ এপ্রিল) কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই বৈরুতসহ লেবাননের জনবহুল বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে এই তণ্ডবলীলা চালানো হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এই হামলায় ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কাতার ভিত্তিক গণ্যমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন এই পরিস্থিতিকে একটি ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইসরায়েল দেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। বৈরুতের আকাশ বর্তমানে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এবং শহরজুড়ে আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স নিরবচ্ছিন্নভাবে হতাহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিকতার তোয়াক্কা না করে সুপরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই অভিযানকে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে চালানো ‘সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত আঘাত’ হিসেবে দাবি করেছেন। তার মতে, ‘অপারেশন বিপার্স’-এর পর এটিই হিজবুল্লাহর ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করছে, যদিও অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেখানে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।অপরদিকে, ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার মুখে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন উচ্চপদস্থ সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছিল, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইসরায়েলের এই বিধ্বংসী হামলা সে আশায় জল ঢেলে দিয়েছে।
