
নিজস্ব প্রতিনিধি সাদিয়া আক্তার :টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হলে মস্কো-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।দুই নেতার মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টার ফোনালাপে এই হুঁশিয়ারি দেন পুতিন। আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।রুশ প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ জানান, পুতিন স্পষ্টভাবে বলেছেন— টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা বদলাতে পারবে না, বরং এটি দুই দেশের সম্পর্ক ও ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।উশাকভ আরও জানান, আলোচনাটি ছিল “খুবই ফলপ্রসূ, খোলামেলা ও গোপনীয়”। ফোনালাপে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, রুশ বাহিনী এখনো পুরো ফ্রন্টলাইনে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।তিনি আরও জানান, ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মত দিয়েছেন ট্রাম্প।ফোনালাপে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাতের বিষয়েও আলোচনা হয়। সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের নাম উঠে এসেছে।এর আগে পুতিন ও ট্রাম্পের সর্বশেষ মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল গত আগস্টে আলাস্কায়। সেই আলোচনার পর থেকে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।ফোনালাপের পর ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে জানান, তিনি ও পুতিন বুদাপেস্টে সাক্ষাৎ করে “যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা” করবেন। এর আগে দুই দেশের প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বৈঠক করবে।এদিকে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র সরবরাহ।এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে “চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি” আছেন।
