
ডেস্ক :
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার এবং এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে ৬৭ হাজার ৬৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬০০ পিস ইয়াবার ভাঙা গুঁড়া এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় মাদক চক্রের অপর এক সদস্য কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন ২০২৬ ইং রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানার একটি বিশেষ টিম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের অংশ হিসেবে বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় আল-নূর হাসপাতালের বিপরীত পাশে ঢাকাগামী লেনে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়।চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি শুরু করেন। এক পর্যায়ে সন্দেহজনক একটি কালো রঙের টয়োটা এক্সিও প্রাইভেটকারকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় গাড়িটির ব্যাকডালার পেছনে বিশেষভাবে তৈরি গোপন স্থানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়।পরে পুলিশ গাড়িটি থেকে ৬৭ হাজার ৬৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৬০০ পিস ভাঙা ইয়াবার গুঁড়া উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে ঘটনাস্থলেই একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অপর এক সহযোগী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।গ্রেফতারকৃত আসামির নাম বাবু মোল্লা (৪৫)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।পুলিশের তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত ৬৭ হাজার ৬৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত জব্দকৃত প্রাইভেটকারটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ এবং বাজারমূল্য বিবেচনায় এটি সাম্প্রতিক সময়ে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অন্যতম বড় মাদকবিরোধী অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং দেশের কোন অঞ্চলে সরবরাহের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি এই চালানের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তাই মাদক পাচার, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
