খুলনা, বাংলাদেশ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

   দাকোপে আলোচিত মামলার আসামী গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ ও স্বারকলিপি প্রদান
  ‎জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে এদেশ স্বাধীন হতো না,,,,,,,,, এমপি লবি
  নওগাঁর ধামইরহাটে পুকুরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি পরেশ  দেবনাথের জন্মদিনে শুভেচ্ছার জোয়ার
  খুলনায় ৩০ মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে জেলা পরিষদের সাইকেল বিতরণ
  পারমাণবিক ইস্যু নয়, যুদ্ধ বন্ধ করাই এখন অগ্রাধিকার : ইরান
  বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন
  চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে জামায়াত নেতার মৃত্যু
  বাসচাপায় বাবা-ছেলে নিহত, বাসে আগুন দিল জনতা
  রামপালে দুর্বৃত্তের হামলায় সাবেক যুবলীগ নেতা নিহত

১২ দিন পরও বন্ধ অপারেশন থিয়েটার, মানবিক বিপর্যয়ে রোগীরা

[ccfic]

ডেস্ক :

এছার জোমাদ্দার (৩৫) দেড় মাস আগে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে ব্রেন টিউমারের অপারেশন করতে ভর্তি হয়েছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অপারেশন তো হয়নি বরং মুমূর্ষু অবস্থায় এখন তাকে রেফার করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে। অথচ চিকিৎসা খরচ তো দূরের কথা এম্বুলেন্সে ঢাকায় নেয়ার ভাড়াও কাছে নেই দিনমজুর বাবা তোফাজ্জাল জোমাদ্দারের।সুলতানা আক্তার নাইচ নার্ভের অপারেশন করাতে এক মাসের বেশি সময় রামপাল থেকে এসেছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ৩ বছরের শিশু সন্তান নিয়ে তার স্বামীও বাড়িঘর ছেড়ে হাসপাতালে থাকছেন হাসপাতালে। অপারেশনের তারিখ নির্ধারিত ছিল ২০ মে, বুধবার। সেইদিনই হাসপাতালে আগুন লাগায় অপারেশন আর কবে হবে, তা বলতে পারছে না কেউ।শুধু এছার জোমাদ্দার বা সুলতানা নয়, অপারেশনের অপেক্ষায় মানবিক বিপর্যয় শুরু হয়েছে শতাধিক রোগীর। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ স্টোরে আগুন লাগার ১২ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও শুরু হয়নি মেরামত কাজ। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যে-সব রোগী দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে অস্ত্রোপচারের তারিখ পেয়েছিলেন, তাদের অনেকের অপারেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো অস্ত্রোপচার না হওয়ায় অনেক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে, কেউ কেউ মৃত্যুঝুঁকির মধ্যেও রয়েছেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগুনের ঘটনায় অপারেশন থিয়েটার এবং পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিটের অক্সিজেন লাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই দিন থেকে হাসপাতালে জরুরি এবং চোখের অপারেশন থিয়েটার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, এছাড়া অক্সিজেন বন্ধ থাকায় ব্যবহার অনুপোযোগী হয়েছে পোস্ট অপারেটিভ ইউনিট। ফলে শত শত মুমূর্ষু রোগী অপারেশনের অপেক্ষায় মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। গতকাল সোমবার হাসপাতালে সার্জারি, নিউরোসার্জারি, ইউরোলজি, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, শত শত রোগী এখানে অপারেশনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য রোগী অপারেশনের জন্য হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু ওটি সচল না থাকায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কিংবা নতুন তারিখের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক রোগী দূর-দূরান্তের জেলা থেকে এসেছেন। কেউ জমি বিক্রি করে, কেউ ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করেছেন। হাসপাতালের বেডে বা বারান্দায় শুয়ে থেকে সব টাকা শেষ হয়ে গেছে। পরে অপারেশনের ওষুধ কেনার টাকাও অনেকের হাতে নেই।সাতক্ষীরা থেকে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই মাস আগে অপারেশনের তারিখ পেয়েছিলাম। সব প্রস্তুতি নিয়ে হাসপাতালে আসার পর জানতে পারি অপারেশন হবে না। এখন আবার কবে হবে কেউ বলতে পারছে না। শরীরের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত হাসপাতাল পরিচালককে জানিয়েছি যে, অপারেশন করতে পারছি না। তারা গণপূর্তের কথা আমাদের বলেন,্ আমরা তো রোগীদের সামনে যেতে পারি না। যে রোগীর আরও এক সপ্তাহ আগে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল, কবে অপারেশন করতে পারবো তাও বুঝতে পারছি না। এতে অনেক রোগী দিন দিন খারাপ হচ্ছে।হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাথে কথা বলেছি। এখনও আমি নির্বাহী প্রকৌশলী ২ জনের সাথে কথা বলেছি, তারা একজন বললো অ্যাসেসমেন্ট শেষ শিগগিরি কাজ শুরু হবে। অন্য আর একজন নির্বাহী প্রকৌশলী একবার এখানে এসেছেন মাত্র। পুরোপুরি এসেসমেন্টই এখনও শেষ করেননি।খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনেস্থেশিয়া বিভাগের বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ দিলিপ কুণ্ডু বলেন, অপারেশন থিয়েটার ঠিকই আছে খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। শুধু অক্সিজেন এর পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার লাইনও বাইরে থেকে নেওয়া, দেয়ালের ভিতর থেকে না। তাহলে এতো সময় লাগবে কেন? একটা অপারেশন থিয়েটার চালু আছে, কিন্তু পোষ্ট অপারেটিভ চালু না থাকায় আইসিইউ থেকে মোট ৬টি বেড পোষ্ট অপারেটিভ হিসাবে চালাচিছ। এতে আইসিইউ রোগীদের সংকট তৈরি হয়েছে।খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হালিম বলেন, মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু হবে। আমাদের অ্যাসেসমেন্ট সব শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজ শুরু করা যায়নি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই আমরা কাজ শুরু করব। খুব দ্রুত কাজ শেষ করে অপারেশন থিয়েটার চালু করতে পারবো।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT