
নিজেস্ব প্রতিনিধি :শরতের আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ভেলা আর মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা সারি সারি কাশফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, চরাঞ্চলের সবুজ বুকজুড়ে কেউ যেন বিছিয়ে দিয়েছে শুভ্রতার এক বিশাল চাদর। প্রকৃতির এমন চোখজুড়ানো রূপ উপভোগ করতে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের পদ্মা নদীঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী।শরতের স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কাশফুলের রাজ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করছেন নির্মল প্রকৃতি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাশবনে মানুষের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।স্থানীয়রা জানান, বর্ষা শেষে পদ্মার তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ফুটতে শুরু করেছে কাশফুল। কয়েক সপ্তাহ ধরে সাদা কাশফুলে ছেয়ে গেছে নদীর পাড় ও আশপাশের চর। শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘ, নদীর ঢেউ আর কাশফুল- সব মিলিয়ে আকোটের চর এখন যেন প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।জেলা সদর থেকে ঘুরতে আসা লিমন আহম্মেদ (২৭) বলেন, কাশফুলের এমন সুন্দর দৃশ্য আগে কাছ থেকে দেখা হয়নি। চারদিকে সাদা কাশফুল আর পাশে পদ্মা নদী-দৃশ্যটা সত্যিই অসাধারণ। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে এসে খুব ভালো লাগছে।জেলার ভাঙ্গা উপজেলা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মনিরুজ্জামান মিয়া (৪০) বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখানকার কাশফুলের ছবি দেখে পরিবার নিয়ে দেখতে এসেছি। বাস্তবে জায়গাটি আরও সুন্দর। শিশুদেরও খুব ভালো লাগছে। শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছু সময়ের জন্য এমন প্রকৃতির কাছে আসা সত্যিই আনন্দের।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতি বছর শরৎ মৌসুমে এখানে কাশফুল ফুটলেও এবার দর্শনার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসায় স্থানীয়দের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই দর্শনার্থীদের কাছে চা, পানি, হালকা খাবারসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করছেন।প্রকৃতি প্রেমীদের মতে, পরিকল্পিতভাবে জায়গাটির সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করা গেলে আকোটের চর ভবিষ্যতে স্থানীয় পর্যটনের একটি সম্ভাবনাময় স্থান হয়ে উঠতে পারে।তবে দর্শনার্থীদের অসচেতনতার কারণে কাশফুল নষ্ট না করা এবং যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।পদ্মার পাড়ে বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের শুভ্রতা আর নদীর নির্মল সৌন্দর্য যেন শরতের এক অপূর্ব ক্যানভাস তৈরি করেছে। আর সেই সৌন্দর্যের টানেই প্রতিদিন মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে।
