
পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি :জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত ৯ ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী কেশবপুরের ‘মাঈশা’র অকাল মৃত্যু, শোকাহত কেশবপুরবাসী। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, কেশবপুর উপজেলা শাখার সংগীত ও আবৃত্তি বিভাগের মেধাবী ছাত্রী এবং কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মাঈশা মারজান পূর্ণতা (৯ম শ্রেণী, রোল-১) সোমবার (১১ মে-২৬) রাতে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে বিরাজ করছে গভীর বেদনা। তার এমন আকস্মিক বিদায় কেউ মেনে নিতে পারছেন না।কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পূর্ণতা ট্যালেন্টপুল বৃত্তি প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়েও মেধার প্রমাণ দিয়েছে। তার অকালমৃত্যু কেশবপুর উপজেলা তথা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য অপূরনীয় ক্ষতি। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মাঝে সৃষ্টি হয়েছে গভীর বেদনা। এমন আকস্মিক বিদায় কেউ মেনে নিতে পারছেন না।পূর্ণতা ছিলো অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও সংস্কৃতিমনা একজন শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দেয় সে। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করে কেশবপুর উপজেলার গর্বে পরিণত হয়েছিলেন। শুধু লেখাপড়াই নয়, গান, আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও তর্ক প্রতিযোগিতাতেও ছিল তার অসাধারণ দক্ষতা।।পূর্ণতার ঘরে সাজানো রয়েছে তার অর্জিত অসংখ্য ক্রেস্ট, পুরস্কার, সার্টিফিকেট ও স্মৃতিচিহ্ন। সেগুলোর দিকে তাকালে আজও মনে হয়—একটি স্বপ্নবাজ মেয়ে হয়তো দেশের জন্য বড় কিছু করতে পারতো। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন থেমে গেল অকালেই।পূর্ণতার বাবা মোঃ মহাসিন একজন শিক্ষিত ও ভদ্র ব্যাংক কর্মকর্তা এবং মা মুরশিদা খাতুন বাগদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। দুই দুই সন্তানের মধ্যে পূর্ণতা ছিলো বড় মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি কেশবপুর উপজেলার ৩ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়নের দেউলী গ্রামে। বর্তমানে পরিবারসহ কেশবপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া পশুহাট সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন। তার মৃত্যুতে যেন শূন্য হয়ে গেছে একটি সুখী পরিবার। বাবা-মায়ের বুক খালি করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া এই মেধাবী কন্যার স্মৃতিতে আজ শুধু কান্না আর নীরবতা।পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল সোমবারও পূর্ণতা হাসিখুশিভাবে বিদ্যালয় ও প্রাইভেটে গিয়েছিলো। সোমবার রাতে পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে নিজ বাড়িতে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করে পূর্ণতা। হঠাৎ এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবার, স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আজ তার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সবাই। কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে সবার প্রিয় ও মেধাবী পূর্ণতা এভাবে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাবে।এ বিষয়ে কেশবপুর অবসরপ্রাপ্ত সেনা কল্যাণ সংস্থার সেক্রেটারি ও কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “মহসিন আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু। আমাদের পরিবার পাশাপাশি কলেজপাড়ায় বসবাস করি। অত্যন্ত ভদ্র, মেধাবী ও হাসিখুশি একটি মেয়ে পূর্ণতা শুধু তাদের মেয়ে ছিল না, আমাদের সবার নয়নের মণি ছিল।কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান, সহকারী প্রধান জনাব প্রবীর কুমার দত্ত-সহ সকল শিক্ষক- কর্মচারীবৃন্দ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পরিবার গভীর দুঃখের সাথে জানায়েছেন, কেশবপুর পূর্ণতার অকালমৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছে। এভাবে মেধাবী কোনো শিশুর প্রাণ যেন অকালে হারিয়ে না যায়-সেই কামনা করছেন।তাছাড়া কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝেও গভীর শোক বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে শোক প্রকাশ ও দোয়া কামনা। সবাই একবাক্যে বলছেন, পূর্ণতা ছিল অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও সবার প্রিয় একটি মেয়ে।
