খুলনা, বাংলাদেশ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত
  খুলনায় ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন —–ডা. শফিকুর রহমান
  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার, ডুমুরিয়ায় জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ
  যশোরের কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
  কক্সবাজার স্টুডেন্ট ফোরাম, রাজশাহীর নতুন কমিটি অনুমোদন
  জালালাবাদে ক্ষুদে ফুটবলার নয়ন ঢাকা ফুটবল লীগে সুযোগ পেল
  গৃহপরিচারিকা নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার পুলিশ দম্পতি, জামিন চেয়ে আবেদন.
  ধ্বংসের কিনারায় কয়রা যুবসমাজ গিলে খাচ্ছে মাদক-জুয়ার বিষাক্ত সিন্ডিকেট

আমিরাত কেন ওপেক ছাড়ল

[ccfic]

ডেস্ক :

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর মাধ্যমে ৫৯ বছরের সম্পর্কের ইতি টানছে উপসাগরীয় দেশটি। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবং জেদ্দায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট জিসিসির জরুরি বৈঠকের মধ্যেই আমিরাতের এ আকস্মিক সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন ধাক্কা হয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর গভীরে রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও কৌশলগত দ্বন্দ্ব।১৯৬৭ সালে ওপেকের সদস্য হওয়া আমিরাত কেন এখন বেরিয়ে গেল, তার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ উঠে এসেছে—সৌদির সঙ্গে বিরোধ: তেলের উৎপাদন সীমা বা কোটা নির্ধারণ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ওপেক ত্যাগের ফলে আমিরাত এখন স্বাধীনভাবে তাদের উৎপাদন বাড়াতে পারবে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা অ্যাডনক জানিয়েছে, তারা ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক উৎপাদন ৫০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করতে চায়। ইরান যুদ্ধের আগে এর হার ছিল দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল।ইরান ইস্যুতে ক্ষোভ: ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে আমিরাত অন্তত ২ হাজার ২০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। আমিরাতের দাবি ছিল—সৌদি আরব ও কাতার মিলে ইরানের ওপর পাল্টা সামরিক হামলা চালাক। কিন্তু রিয়াদ বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কায় সেই পথে না হাঁটায় ক্ষুব্ধ হয় আমিরাত।ওয়াশিংটনের সঙ্গে সখ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের কড়া সমালোচক। জোট ত্যাগের মাধ্যমে আমিরাত নিজেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, যা তাদের বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।তেলের বাজারে প্রভাব: ইরান যুদ্ধের কারণে গত মার্চে ওপেকের উৎপাদন দৈনিক ৭৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল কমে গেছে, যা জোটের মোট উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আমিরাতের নিজস্ব উৎপাদনও ৪৪ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছিল। এখন জোটের বাইরে গিয়ে আমিরাত এককভাবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বা মুনাফা অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে। দুবাই ভিত্তিক এমিরেটস পলিসি সেন্টারের সভাপতি ড. ইবতেসাম আল-কেতবি বলেন, আমিরাত এখনজোটের ভেতর থেকে নয়, বরং একক পক্ষ হিসেবে বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি ওপেককে দুর্বল করলেও আমিরাতের প্রভাব বাড়িয়ে দেবে।আঞ্চলিক অস্থিরতার নতুন সংকেত: আমিরাতের এ সিদ্ধান্তে সৌদি আরবের প্রভাব বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। আমিরাতের ওপেক ত্যাগের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠল যে, মধ্যপ্রাচ্যে এখন আর ‘যৌথ সংহতি’ কার্যকর নেই। ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ এবং ইরানের কট্টর বিরোধী হিসেবে আমিরাত এখন এককভাবে তাদেরপ্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ার পথে হাঁটছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

 

 

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT