খুলনা, বাংলাদেশ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে গ্রহণ ও সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারকার্য সম্পন্ন
  নারী কাবাডি প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত
  ১৫ (পনের) বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত WINCEREX সহ ০১ জন গ্রেফতার
  কেশবপুরে ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মানুষের হাট।
  প্লাস্টিক দূষণে বিপন্ন সুন্দরবন, সমাধানে সমন্বিত ‘মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়নের দাবি
  ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্পের পাশেই অবৈধ বালু উত্তোলন,
  বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, কোল থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণে বাঁচল মেয়ে
  দু’সপ্তাহেও খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে অস্থিরতা কাটেনি
  খুলনায় ৬০০ পিস ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
  তেরখাদায় উন্মুক্ত খাস ডাকে ইখড়ি গো-হাট ইজারা, বাকি হাটে অংশগ্রহণ কম

ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্পের পাশেই অবৈধ বালু উত্তোলন,

[ccfic]

মোঃ রনি আহমেদ রাজু, বিশেষ প্রতিনিধি: একদিকে চলছে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নদীভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ ঠিক তার পাশেই নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে উত্তোলন করা করা হচ্ছে বালু। অবৈধ উপায়ে উত্তোলিত এসব বালু ব্যবহৃত হচ্ছে খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত প্রকল্পের ব্লক নির্মাণ এবং জিওব্যাগে।২৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা সংলগ্ন মধুমতী নদীর উত্তর চরনারানদিয়া এবং দেউলী এলাকায় অন্তত ৫-৬ টি প্যাকেজ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলনকৃত এসব বালু আলফাডাঙ্গা উপজেলার চাংড়া,চরনারানদিয়া, দেউলী, বেরিরহাট,বানা, এবং মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার যশবন্তপুর, চর যসবন্তপুর সহ নদীর উভয় পাড়ের বেশ কয়েকটি স্থানে ডাম্পিং করা হচ্ছে। স্খানীরা বলছে, উপজেলা ও জেলা প্রসাশনকে জানিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না, প্রসাশন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বেশিরভাগ ডাম্পিং ইয়ার্ড নদীর একেবারে তীরবর্তী হওয়ায় এবং উত্তোলিত বালু পাইপ লাইনের মাধ্যমে অপসারণে ব্যবহৃত পানি যত্রতত্রভাবে নদীতে ফিরে যাওয়ায় নদী পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে নদী তীরে গড়ে ওঠা জনবসতি, কৃষি জমি, সরকারি বেসরকারি স্থাপনা।এ অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত মধুমতী নদীতে অন্তত চারটি মারাত্মক বাক থাকায় বর্ষা মৌসুমে প্রবাহিত তীব্র স্রোত ও ঢেউ তার গতিপথ হারিয়ে নদীপাড়ে ধাক্কা খায়। ফলে অঞ্চলটি নদী ভাঙ্গন কবলিত। ভাঙ্গন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে সরকারি অর্থায়নে শতকোটি টাকা ব্যয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ভাঙ্গন কবলিত স্থান গুলোতে(চরনারানদিয়া, চরঝামা,দেউলি, বেড়ির হাট ইত্যাদি) জিওব্যাগ এবং ব্লক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পটির অতি নিকটবর্তী নদীগর্ভ থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। ফরিদপুর জেলা প্রশাসকর কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা সূত্র বলছে, আলফাডাঙ্গা উপজেলার উত্তর চরনারানদিয়া মৌজার ৫৯ (উনষাট) একর জায়গা পূর্বঘোষিত বালুমহল থকায় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এবং বালু উত্তোলনের স্থান নির্দিষ্ট এবং নির্ধারিত।বালুমহলের জন্য নির্ধারিত সীমানার ভেতর থেকেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলছেন উত্তর চরনারানদিয়া বালুমহলের ইজারাদার রবিউল ইসলাম।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলফাডাঙ্গা ফরিদপুর এ কে এম রায়হানুর রহমান মুঠোফোনে জানিয়েছেন, উপজেলার দেউলিস্থ মধুমতী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে দুই বার অভিযান পরিচালনা করেছি, তাৎক্ষণিক অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ ধংশ করা হয়েছে। বালুমহলের জন্য নির্ধারিত সীমানার বইরে থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ইজারাদারকে। এর পরও যদি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না করে সেক্ষেত্রে ইজারা বাতিলের সুপারিশ করবো। নদীতে অভিযান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট (দ্রুতগামী নৌযান) না থকায় কার্যক্রম পরিচালনা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলেও জানান স্থানীয় প্রশাসনের এই কর্মকর্তা। বিশেষাজ্ঞরা বলছেন, শতকোটি টাকা ব্যয়ে নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের অতি নিকটবর্তী নদীগর্ভ থেকে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে এ প্রকল্প অর্থহীন হবে। অচিরেই অবৈধ এ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন নদীতীরবর্তী কয়েক গ্রামের বাসিন্দা এবং সচেতন মহল।্মা্টি বালি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, বালু উত্তোলন করতে হলে অবশ্যই সরকার কতৃক ইজারাকৃত বালুমহল থেকে বালু উত্তোলন করতে হবে এবং উত্তোলিত বালু স্তুপ করতে হলে ঠিকাদারকে তার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জেলা মাটি বালি কমিটির অনুমোদিত স্থানে স্তুুপ করতে হবে। কিন্তু স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা অথরিটির কোনরকম অনুমতি ছাড়াই ঘোষিত বালু মহলের জন্য নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে বালু উত্তোলন করছে এবং উত্তোলিত এসব বালু পৃথক স্থানে ডাম্পিং, এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে জায়গা ভরাট করছে। এতে করে এক দিকে যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার অন্যদিকে অপরিকল্পিত স্থানে স্তুপকৃত বালু ভারী যানবাহন দিয়ে পরিবহনের সময় নষ্ট হচ্ছে রাস্তা ঘাট। গ্রমীন সড়ককে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে বাড়ছে দুর্ঘটনা। এমন পরিস্থিতিতে অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চান সচেতন এলাকাবাসী।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT