খুলনা, বাংলাদেশ | ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  বেতন-বোনাসের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ
  যশোরে পিস্তল ও ককটেলসহ বেজপাড়ার রনি আটক
  দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা, বাংলাদেশিসহ আহত ৪
  রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিড়াল হত্যা: আসামি শিবলুর ৬ মাসের কারাদণ্ড
  সংশোধনের অপেক্ষায় ১ লাখ ৩০ হাজার এনআইডি আবেদন
  সংসদের প্রথম অধিবেশনে কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত।
  শিশুকে দিয়ে প্রতিবেশীর সঞ্চয়ের টাকা হাতানোর অভিযোগ; বিতর্কিত হাসিবকে ঘিরে এলাকায় তোলপাড়
  সরিষাবাড়ীতে ৪ নারী পকেটমার গ্রেপ্তার
  স্বামী বেঁচে থাকতেই অন্যত্র বিয়ে, আদালতে মামলা

স্বামী বেঁচে থাকতেই অন্যত্র বিয়ে, আদালতে মামলা

[ccfic]

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃখুলনার কয়রা উপজেলার গোবরা গ্রামের মো. আবু হানিফ ও শারমিন আক্তার পলির সংসার শুরু হয়েছিল ভালোবাসা ও স্বপ্ন নিয়ে। পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর পরিবারকে জানিয়ে বিয়ে—সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। তবে ২০২২ সালের ১৭ আগস্ট এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে হানিফের জীবন।দুর্ঘটনার পর প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন হানিফ। তাঁর অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে স্ত্রী শারমিন আক্তার পলি পরিবারের পরামর্শে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। সুস্থ হয়ে ফিরে স্ত্রীকে ফেরাতে একাধিকবার চেষ্টা করেন হানিফ। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিসও বসে। তবে কোনো উদ্যোগেই সমাধান হয়নি।পরবর্তীতে স্ত্রীকে ফেরাতে আদালতের দ্বারস্থ হন হানিফ। এ সময় তিনি জানতে পারেন, কোনো তালাক ছাড়াই কয়রা ইউনিয়নের কাজী মোহা. ইউনুচ আলীর মাধ্যমে পলির বিয়ে দেওয়া হয় পাশের সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জয়াখালী গ্রামে। এর আগে হানিফের বাড়িতে একটি কথিত নোটারি তালাকনামার ফটোকপি স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়।স্ত্রীকে জোর করে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে হানিফ বাদী হয়ে কয়রা ইউনিয়নের কাজীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, তালাকের জন্য ব্যবহৃত নোটারি কাগজটি ভুয়া। ভুক্তভোগী হানিফ বলেন, “আমাকে কোনো তালাক না দিয়েই ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ভুয়া নোটারি কাগজ দেখিয়ে আমার স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। আমি প্রতিবাদ করলে কাজী মোহা. ইউনুচ আলী আমাকে কিছু টাকা নিয়ে বিষয়টি চুপচাপ মিটিয়ে নিতে বলেন। এ ছাড়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনও আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর বিয়ের প্রায় এক মাস পর কয়রা ইউনিয়ন কাজী অফিস থেকে একটি তালাকের কপি তৈরি করে দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী।হানিফের অভিযোগ, শারমিন আক্তার পলির বাবা আনিছুর রহমান গাজী নিয়মিত তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।প্রাপ্ত অভিযোগ ও নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হানিফ ও শারমিন আক্তার পলির বিয়ে হয়। হানিফের এটি ছিল প্রথম বিয়ে। তবে পলি এর আগেও একবার বিয়ে করেছিলেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে পলির তৃতীয় বিয়ে হয়। ওই বিয়ের বৈধতা দেখাতে একটি ‘তালাক এফিডেভিট’ দাখিল করা হয়, যা যাচাই করে ভুয়া বলে জানা গেছে। নথিতে ব্যবহৃত নোটারি ও আইনজীবীর নাম সম্পর্কে অনুসন্ধানে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি জানিয়েছে, ওই নামে কোনো নোটারি বা আইনজীবীর অস্তিত্ব খুলনা বারে নেই।এ বিষয়ে কয়রা ইউনিয়নের কাজী মোহা. ইউনুচ আলী বলেন, “বিষয়টি ভুল হয়ে গেছে। মেয়ে ডিভোর্স নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করলে আমার কিছু করার নেই। আমি বিয়ে না পড়ালে অন্য কোনো কাজী বিয়ে পড়াত।”কয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লৎফর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে পরিষদে সালিশের আবেদন করেছিল হানিফের পরিবার। কিন্তু শারমিন বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা বারবার ডাকার পরও উপস্থিত না হওয়ায় হানিফের পক্ষে একটি সালিশনামা দেওয়া হয়।”ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT