খুলনা, বাংলাদেশ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  খুলনা ব্যান্ড মিউজিককে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে KBMFC
  সাংবাদিক জিল্লুর স্ত্রী পেলেন বিএনপির মনোনয়ন
  এনসিপি থেকে এমপি হচ্ছেন মনিরা ও মিতু
  বিচার চেয়ে ন‌ওয়াপাড়ায় সংবাদ সম্মেলন বহু বিবাহের নায়ক মেহেদী ও রূপার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার গৃহবধূ উর্মি
  ডুমুরিয়ায় হাসিবুনিয়া গ্রামে এসিআই কোম্পানির সূর্যমুখী বীজ (হাইসান -৩৬;জাতের উপর মাঠ দিবস
  সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেলেন যারা
  পাঁজিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে কেশবপুরে দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে হস্তশিল্প” প্রকল্পের উদ্বোধন
  ১৫০ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতারঃ কেএমপি
  কেএমপি’র মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত :
  তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ, স্থানীয়দের দাবি—আচরণ অস্বাভাবিক

ধানের শীষ হচ্ছে দেশের মানুষের একমাত্র পাহারাদার: মিলন

[ccfic]

সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার :

রাজশাহী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন গণসংযোগ করেছেন।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এ গণসংযোগে অংশ নেন। এ সময় তিনি বলেন, “ধানের শীষ হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পাহারাদার। বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন দেশের সার্বিক উন্নয়ন হয় এবং জনগণ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে।”
গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, গত ১৭ বছরে পবা-মোহনপুরে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যার ফলে জনগণের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং ধুলাবালির কারণে পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব রাস্তাঘাট পুনর্নির্মাণ, সংস্কার ও নতুন রাস্তা নির্মাণের অঙ্গীকার করেন। তিনি আরও বলেন, “এই এলাকার যেসব উন্নয়ন হয়েছে, তার সবই বিএনপির আমলে হয়েছে।”
জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজশাহীতে এসে তারা নানা ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য ও কটূক্তি করেছে। তবে বিএনপি ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে, কারণ বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল। একটি দেশবিরোধী দলের ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী চায় বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন না হোক।
নারী অধিকার প্রসঙ্গে মিলন বলেন, জামায়াতে ইসলামী এখন নারী উন্নয়নের কথা বললেও বাস্তবে তারা নারীদের উন্নয়নে বিশ্বাসী নয়। সম্প্রতি কর্মজীবী নারীদের নিয়ে তাদের দলের আমির ড. শফিকুর রহমানের করা আপত্তিকর মন্তব্য এর প্রমাণ। এছাড়া এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো নারী প্রার্থী নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে এবং নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো শঙ্কা নেই। নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারী উন্নয়নে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হবে এবং ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ৩১ দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন।
যুব সমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মিলন বলেন, পবা-মোহনপুর এলাকায় স্মল ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা হবে, যাতে যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং সেখানে কর্মরতদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কৃষি খাতে উন্নয়নের অংশ হিসেবে কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমাতে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি। শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো আধুনিকায়ন ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।
সবশেষে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভোটের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সকাল ৭টার মধ্যেই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করবেন।”
এদিকে, গণসংযোগ চলাকালে হরিয়ান ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে মিছিল ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। স্থানীয় জনগণ ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেন এবং অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনেক সিনিয়র ভোটার আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁর মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন এবং সময়মতো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া, সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আল, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, আসাদুজ্জামান বাবু, ইসরাফিল হোসেন সাধু, মুকুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT