
সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সরকারি খাস পুকুর ইজারায় চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে থাকা যুবলীগ নেতা রায়হান আলীর নামে তার অনুমতি ছাড়া নয় বিঘা দুটি পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি যাচাই-বাছাই না করে এই ইজারা মঞ্জুর করেছে।
জামিনে বের হওয়ার পর রায়হান আলী জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে লিখিতভাবে জানান, তিনি কারাগারে থাকার সময় পুকুর ইজারায় কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন না। তার স্বাক্ষর জাল করে ইজারা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, রায়হান আলী রাজশাহী জেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক এবং তার বাবা অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি গোদাগাড়ী পৌরসভার প্রাক্তন মেয়রও ছিলেন। ৮ মে এক রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে যান এবং ৪ জুন পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এর পরেও তার নামে পুকুর ইজারা দেওয়া হয়।
রায়হান আলীর আশার আলো মৎস্যচাষী লিমিটেড নামে সমবায় সমিতি থাকলেও তিনি প্রকৃত মৎস্যচাষী নন। কারাগারে থাকা অবস্থায় সমিতির নামে তিনটি পুকুর ইজারা জন্য আবেদন করা হয়। ২৭ অক্টোবর, উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি সমিতির নামে দুটি পুকুর ইজারা দেয়। মিরপুরের একটি পুকুর অন্য সমিতির নামে দেওয়া হয়েছে, কারণ বিধি অনুযায়ী একটি সমিতি সর্বাধিক দুটি পুকুরই পেতে পারে।
স্থানীয় মৎস্যচাষীরা অভিযোগ করেছেন, ‘কারাগারে থাকা অবস্থায় রায়হানের স্বাক্ষর জাল করে পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন যথাযথ যাচাই-বাছাই করেনি।’
পুকুর ইজারার তথ্য প্রকাশের পর রায়হান আলী লিখিতভাবে জানান, তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে। সমিতি দরপত্র দাখিল করেনি, কোনো পে-অর্ডার করেনি এবং অনুমোদনের পর অন্য কেউ স্বাক্ষর জাল করে দলিল সম্পাদন করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই তিনটি পুকুর মূলত সারাংপুর মহল্লার মাহফুজুল বারীর সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা পুকুরগুলোকে অন্য কাউকে সাবলিজ দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং প্রতি পুকুরে এক বছর জন্য চার লাখ টাকা দাবি করছে। মাহফুজুল বারী নিজেও প্রকৃত মৎস্যচাষী নন।
নতুন যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাদাত রত্ন বলেছেন, ‘আমি অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
