জি,এম,ফিরোজ, ডুমুরিয়া:-খুলনায় ডুমুরিয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে চায়ের দোকানে ঢুকে বিএনপি নেতার ছেলে শেখ তরিকুল ইসলামকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পর শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নিহতের স্ত্রী রিম্পা শেখ বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আগে আটক দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ ও অন্য জড়িতদের শনাক্ত করা নিয়ে এখনো রহস্য কাটেনি।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুজন হলেন ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান গাজীর ছেলে রাতুল গাজী (২৫) এবং রামকৃষ্ণপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের ছেলে সজল বিশ্বাস (২৬)।এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে এক নারীসহ ছয়জনকে আটক করে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁরা হলেন রাতুল গাজী (২৫), সজল বিশ্বাস (২৬), শাহাজান গাজী (১৯), মোমিন গাইন (২৬), সাদিক সানা (১৮) ও সজল বিশ্বাসের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (২২)। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার আটক ছয়জনকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে তাঁদের মধ্য থেকে দুইজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রামকৃষ্ণপুর-আনছারাবাদ সড়কের আব্দুল গফ্ফার সানার চায়ের দোকানে ঢুকে মুখোশ ও হেলমেট পরা দুই যুবক তরিকুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাদক কারবার, ঘেরের চাঁদা দাবি ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়গুলো আলোচনায় এলেও হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। মামলার পর দুইজন গ্রেপ্তার হলেও মূল পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি হামলাকারীদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।