
জি. এম. ফিরোজ, ডুমুরিয়া (খুলনা):
নদী ভরাট, খাল দখল আর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ—একের পর এক সংকটে বিপর্যস্ত খুলনার ডুমুরিয়ার বিল ডাকাতিয়া। প্রায় ২২ বছর ধরে হামকুড়া নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গত চার বছর ধরে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বহু গ্রামের মানুষ। বন্ধ হয়ে গেছে ধান চাষ, ব্যাহত হচ্ছে মাছ চাষ; গোখাদ্যের সংকটে গবাদিপশুও বিক্রি করছেন অনেকে।স্থানীয়দের অভিযোগ, হামকুড়া নদীর বিভিন্ন অংশ দখল করে ইটভাটা, পাকা ঘরবাড়ি ও মৎস্যঘের গড়ে তোলা হয়েছে। শোলমারী গেটের সামনে পলি জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কৃষ্ণনগর, বটবড়া, বারানসি, মজারঘুটা, সাড়াভিটা, রংপুর, দেড়ুলী ও কোমরাইলসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, জলাবদ্ধ এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও ওষুধও পৌঁছাচ্ছে না।২ নম্বর রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক তারক চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “আমরা বেশি কিছু চাই না, শুধু বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান চাই।” তিনি শলুয়া ও কালীঘাট সুইচগেট সচল রাখা এবং আপিল গেট দিয়ে খাল খনন করে ভৈরব নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের দাবি জানান।তরুণ সমাজসেবক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা. অনুপম মল্লিক বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। আপিল গেট দিয়ে ভৈরব নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও জোয়ার-ভাটা চালু করা গেলে কৃষকেরা উপকৃত হবেন বলে তিনি মনে করেন।খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে শোলমারীতে বড় পাম্প স্থাপন, মধুগ্রাম বিলে টিআরএম চালু এবং খাল কেটে আপিল গেট দিয়ে ভৈরব নদীতে পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।স্থানীয়দের দাবি, আশ্বাস নয়—বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসন ও হামকুড়া নদী পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।