পাইকগাছা খুলনা নিজস্ব প্রতিনিধি:মোঃ শফিয়ার রহমান,
পাইকগাছায় গত ৪৮ ঘণ্টায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ট্রাক উদ্ধারসহ বিভিন্ন মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও জুয়া খেলার অভিযোগে মোট ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ছয় জুয়াড়িকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রাতে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই আজিজুল ইসলাম ও কৃপাসিন্ধুসহ পুলিশের একটি দল যশোরে অভিযান চালিয়ে একটি চুরি হওয়া ট্রাক উদ্ধার করে। এ সময় ট্রাক চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়। তাঁরা হলেন যশোরের চাঁচড়া বাবলাতলা এলাকার আরিফুল ইসলাম (২৮), জাহের হাসান (২৭), অনিক (৩৭) ও আরিফ হোসেন (২৭)।পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ট্রাকটির মালিক পাইকগাছার গদাইপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মিঠুন সরকার। ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ড-১১-৯৪-৯১। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।এদিকে উপজেলার বিরাশী এলাকা থেকে এসআই আজীমউদ্দীন ও এএসআই রাসেল রানা ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি হাসান শেখ (৩২)কে গ্রেপ্তার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ৯টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। একটি মামলায় তাঁর সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।চাঁদখালীর সাহাপাড়া এলাকা থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি নূর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাড়ুলী এলাকা থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আসামি মো. জলিল জোয়াদ্দার (৫০)কে আটক করা হয়েছে।পুলিশের আরেক অভিযানে পৌরসভা এলাকা থেকে গড়ইখালীর ৩৫ বছর বয়সী এক নারীকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, দেহব্যবসার অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরে সামারি ট্রায়ালে আদালত তাঁকে জরিমানা ও দুই মাসের কারাদণ্ড দেন।অন্যদিকে চাঁদখালীর দেবদুয়ার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়। তাঁরা হলেন ফারুক সানা (৫৫), মিজানুর গাজী (৫৪), শেখ কল্লোল (৫৫), সেলিম গাজী (৫৫), কেসমত (৪২) ও মিজানুর রহমান (৫৮)। পরে সামারি ট্রায়ালে তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও যশোরে অভিযান চালিয়ে এসব আসামিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮ ঘণ্টায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে চুরি হওয়া ট্রাক উদ্ধারের ঘটনায় চারজন, বিভিন্ন মামলার আসামি ও সাজাপ্রাপ্ত তিনজন, এক নারী এবং জুয়া খেলার অভিযোগে ছয়জন রয়েছেন।