নিজস্ব প্রতিনিধি :এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
আধুনিক প্রযুক্তি আর মোবাইলের কারনে বদলে যাচ্ছে চারপাশের বিনোদনের মাধ্যম। মোবাইল গেমসের ফলে এখন আর বিকেলে মাঠে দেখা যায়না কিশোর-কিশোরীদের। উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রামীণ খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট হারাচ্ছে অনেকেই। তাই বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাগুলো।একসময় গ্রামীণ বিনোদনের মাধ্যম ছিল হা-ডু-ডু, দাড়িয়াবান্ধা, কাবাডি, গোল্লাছুট, কানামাছি, বউচি, লোকোচুরি, লাটিম, মার্বেলসহ বিভিন্ন খেলা। অথচ বর্তমানে এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার প্রচলন না থাকায় গ্রামীণ জনপদ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে হাজার বছরের বাঙালীর ঐতিহ্য। একবিংশ শতাব্দীর নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য এসব গ্রামীণ খেলাধুলা তো করেই না, বরং অনেকের কাছে এ খেলাধুলা অচেনা ও অজানা।কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব গ্রামীন খেলা দেখা যায়না। কিশোর কিশোরীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসে জড়ো হতো খেলার মাঠে। করতালি আর শোরগোলে হাডুডু, কাবাডি, দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট,লাটিম, মার্বেল খেলা শুরু করতো। ছোট-বড় সবার মন ছিল খেলার জন্য উদগ্রীব। গ্রামের শিশু-কিশোররা পড়াশোনার পাশাপাশি মেতে উঠতো বিভিন্ন ধরনের খেলায়। বতমান যুগে মোবাইল গেইম সেই সোনালী ঐতিহ্য বিনষ্ট করে দিচ্ছে প্রতিক্ষনে প্রতিমুহুর্তে। আধুনিক প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে অতীতের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলেও খোলা জায়গা বা খেলার মাঠের স্বল্পতার কারণে অনেক গ্রামীণ খেলা বন্ধের পথে। ফলে বর্তমানে ভিডিও গেমস, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন ইত্যাদি গ্রামীণ খেলাধুলার স্থান দখল করে নিয়েছে। ছেলেমেয়েরা একটু সময় পেলেই মেতে ওঠে এসব যান্ত্রিক জিনিস নিয়ে। পড়াশুনা যেমন ছেলে-মেয়েদের মানসিক বিকাশ ঘটায়, তেমনি শারীরিক বিকাশ ঘটাতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। দেখা যায়- রেললাইনে, মোবাইল টাওয়ারের নিচে বা যেখানে সেখানে উঠতি প্রজন্মের তরুন ও যুব সমাজ মোবাইলে আসক্তের কারনে চিরচেনা সেই সোনালী ঐতিহ্যময় খেলাধুলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অতীতের সময়ে প্রতিবছর সব স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসাগুলোতে নানান ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হত। এসব প্রতিযোগিতায় ফুটবল, ক্রিকেট ও সাঁতার ছাড়া আর কিছু তেমন চোখে পড়েনা। ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ক্ষুদে ফুটবলারদের প্রতিনিয়ত প্র্যকটিস করা হচ্ছেএ অবস্থা চলতে থাকলে হয়ত অচিরেই গ্রামীণ খেলাধুলা আমাদের সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাবে। পরিণত হবে রূপকথার গল্পে। স্থানীয় আবদু শুক্কুর, জিয়া, নুরুচ্ছফা জানান, আগেকার দিনে কতইনা খেলাধুলায় মুখর থাকতো এলাকার ছেলেমেয়েরা। এখন ফুটবল, ক্রিকেট ছাড়া কোন খেলা আর চোখে পড়েনা তেমন।মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে প্রজন্মকে রক্ষা ও গ্রামীণ খেলাকে বাঁচাতে এলাকা ভিত্তিক সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে এসে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।