বিশেষ প্রতিনিধি পরেশ দেবনাথ
যশোরের কেশবপুরে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৪০) ও কড়িয়াখালি গ্রামের আবু নাঈম (১৩) নামে আরও দুইজন ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে নারী ও শিশুসহ মোট ১২২জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি হলো। এদের মধ্যে ১১৪ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকী ৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরপরও নেই মশা নিধণের কার্যক্রম। এখানে দিনে ও রাতে সমান ভাবে মশার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে কেশবপুর পৌর এলাকাসহ উপজেলা বাসী। এর ফলে উপজেলা ব্যাপী ডেঙ্গু আতংক বিরাজ করছে।উপজেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের বসবাস। এ জনসংখ্যার বিপরীতে কেশবপুর সদরে সরকারী হাসপাতাল মাত্র ১টি। এদিকে কেশবপুর পৌর সভার ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ১ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকটি সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও অন্য ওয়ার্ড গুলিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এসব ড্রেন গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকলেও ঠিকমত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না করার কারনে মশার উপদ্রব বেড়েছে। এছাড়া পৌর সদরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়পীঠ খালসহ কয়েকটি খালে দীর্ঘদিন ধরে কচুরীপানা জমে থাকার কারনে অধিক হারে মশা বেড়েছে। অপর দিকে পৌর সদরের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে মধ্যকুল নামকস্থানে পৌর ময়লার ভাগাড়ের সাথে জমে থাকা পানিতে সব থেকে বেশী মশা জন্মাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানান। তবে নেই মশা নিধনের তেমন কোন কার্যক্রম।পৌরবাসী ও দোকানীরা বলেন, এ বছর ডেঙ্গুর প্রভাব বাড়লেও পৌরসভা থেকে ১ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ পর্যন্ত মাত্র ১/২ বার মশা মারার ঔষধ ছিটানো হয়েছে। তারপরও ছিটানো ঔষধে কোন কাজ হচ্ছে না।এদিকে চলতি বছর উপজেলা ব্যাপী ডেঙ্গু মশার উপদ্রব লক্ষ করা যাচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই মশার কারনে স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ঠিকমত লেখা পড়া করতে পারছেনা। পাশাপাশি বাড়ির গৃহবধু ও গৃহকর্তারা সব সময় ডেঙ্গু আতংকে রয়েছেন। উপজেলার গ্রাম গুলোর ঝোপ-ঝাড়, নালা, খানা, পুকুর এবং নদী ও খালে দীর্ঘদিন ধরে কচুরীপানা জমে থাকার কারনে মশা জন্মাচ্ছে বেশী। এ সব স্থানে দ্রুত মশা নিধন না করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সবাই মিলে জনসচেনতাসহ মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন বেড়ে যাবে। কেশবপুরের প্রতিটা ইউনিয়নসহ পৌর সদরে মশক নিধনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানিয়েছেন উপজেলাবাসী।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রেহেনেওয়াজ বলেন, অন্য বছরের তুলনায় চলতি বছর কেশবপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশী। নারী ও শিশুসহ মোট ১২২জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ১১৪ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বাকী ৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে সম্মিলিত ভাবে জনসচেনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মশক নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। তাহলে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব কমে আসবে।