ডুমুরিয়া, নিজস্ব প্রতিনিধি জি. এম. ফিরোজ
ভোটের মাঠে শুধু স্লোগান নয়, মানুষের সমস্যার সমাধানেই নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন সমাজসেবক মতলেবুর রহমান মিতুল। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আড়ংঘাটা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একের পর এক মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এই চেয়ারম্যান প্রার্থী বলছেন, “মানুষের পাশে থাকতে হলে নির্বাচনের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় না।”সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় আড়ংঘাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে উপস্থিত থেকে রাস্তার খানাখন্দ মেরামত, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্যোগ নেন মিতুল। জরাজীর্ণ রাস্তায় ইট-বালু দিয়ে চলাচলের উপযোগী করা থেকে শুরু করে পশ্চিমপাড়া মসজিদের ইমামের ভাঙাচোরা ঘর নির্মাণ—নিজ অর্থায়নে এসব কাজ করছেন তিনি।স্কুলের নিরাপত্তায়ও মিতুলের উদ্যোগ আড়ংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের চারপাশের প্রাচীরের লোহার রডের কিছু অংশ কেটে নিয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছিল বড় ধরনের ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির মাদকসেবী এসব রড কেটে নিয়ে যায়। ফলে প্রাচীরের মাথায় বেরিয়ে থাকা রডে বল আনতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় ছিল।শিশুদের এই ঝুঁকির কথা জানতে পেরে মিতুল নিজের অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেন। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বল পড়ে গিয়ে যাতে নষ্ট না হয় এবং বল আনতে গিয়ে তারা যেন দুর্ঘটনার শিকার না হয়, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণ?স্থানীয় রাজনীতিতে মিতুলের এমন জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। নির্বাচনের আগে যেখানে অনেকেই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছড়ান, সেখানে মিতুল প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি মাঠে কাজ দেখানোর চেষ্টা করছেন—এমন মন্তব্য করছেন তার অনুসারীরা।মিতুল বলেন, “আমি মানুষের ভোটের জন্য শুধু কথা বলতে চাই না। মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়াতে চাই। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অসমাপ্ত কাজগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করছি। জনগণ সুযোগ দিলে বৃহত্তর পরিসরে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব।”এ সময় উপস্থিত ছিলেন আড়ংঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রাসেলুজ্জামান রাসেল, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনায়েত উল্লাহ, মোঃ ইউনুছ হাওলাদার, সেলিম মল্লিক, মানিক সরদারসহ সংগঠনের নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, নির্বাচনের মাঠে মানুষের সঙ্গে থাকা এবং বাস্তব সমস্যায় পাশে দাঁড়ানোই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয়। মিতুলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সেই প্রত্যাশাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।এখন দেখার বিষয়, মাঠের এই জনসম্পৃক্ততা ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে এবং বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে মিতুল শেষ পর্যন্ত কতটা এগিয়ে যেতে পারেন।