নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে মাইকিং নামের শব্দদূষণ। যত্রতত্র গড়ে উঠা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে উচ্চ স্বরে মাইকিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। শুধু চিকিৎসাসেবা নয়,খাদ্য সামগ্রী বিক্রি,ফুটপাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রিসহ নানান ক্ষেত্রে চলছে প্রচারণা। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যেন থামছেনা শব্দের তাণ্ডব।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোরে ঘুম থেকে ওঠার আগেই কানে ভেসে আসে ডাক্তার আজ রোগী দেখবেন, ক্লিনিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বসবেন ইত্যাদি ঘোষণা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অটোরিকশা কিংবা সিএনজিতে বসানো মাইক দিয়ে এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী,রোগী,বৃদ্ধও কর্মজীবী মানুষ ভোগান্তি তে পড়েছে। ফলে মাইক ব্যবহার বাড়ছে আশঙ্কা জনক হারে।সাম্প্রতিক সময়ে তিনচাকার যানবাহনে মাইক বেঁধে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিক্রি করেন পাড়া মহল্লায় একদল যুবক।গরুর মাংস বিক্রির খবরও মাইকিংয়ে জানান বিক্রেতারা। গ্রামীন জনপদের লোকজনরাও প্রতিনিয়ত অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন মাইকিংয়ের শব্দে। যার কারনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন পথচারী,রোগী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, পড়ার সময় পড়তে বসলে মাইকের শব্দে মনোযোগ ধরে রাখা যায়না। সকাল থেকে বারবার একই প্রচারণা শুনতে হয়। এতে পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হয়। লেখাপড়া চরম ব্যাঘাত ঘটছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সারাদিন দোকানে বসে এত শব্দ শুনতে শুনতে বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়ায়। দোকানে আসা ক্রেতারাও বিরক্ত হন। বহু সময় স্বাভাবিকভাবে কথাও বলা যায়না। চারদিকেই শুধু মাইকের শব্দ। সচেতন মহল জানান, শব্দদূষণ শুধু বিরক্তির কারণ নয়,এটি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর শিশুদের মনোযোগ নষ্ট হয়, মানসিক চাপ বাড়ে ও শ্রবণশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই।পথচারী জিয়া,আজিম ও শুক্কুর জানান, কারনে অকারনে মাইকিং আসলেই দু:খজনক। অসুস্থ রোগী কিংবা পাড়া মহল্লায় ছেলেমেয়েদের লেখা পড়ার কথা বিবেচনায় রেখে অপ্রয়োজনীয় মাইকিং বন্ধের দাবী। ঈদগাঁওবাসীর প্রত্যাশা মাইকিং বন্ধ করে শান্ত এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।