ডেস্ক :
খুলনায় ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসস্থলের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে একাধিক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। এসব ক্যাম্পে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বরে আক্রান্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সোনাডাঙ্গা আবু বক্কার খান আদর্শ (রেজিঃ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি মেডিকেল ক্যাম্পের চিকিৎসা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।উদ্বোধনকালে কেসিসি প্রশাসক বলেন, “আমরা নগরবাসীকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখতে চাই।” বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রায় তিন মাস আগে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিল। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তখন থেকেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কেসিসি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।তিনি বলেন, নগরবাসীকে সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার, ড্রেন-নর্দমা ও খাল পরিষ্কার এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে অ্যাডাল্টিসাইড ও ড্রেন-নর্দমায় লার্ভিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ক্রাশ প্রোগ্রামও চালু করা হয়েছে।কেসিসি প্রশাসক জানান, ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বিবেচনায় নগরীর বিভিন্ন এলাকাকে রেড, অরেঞ্জ ও ইয়েলো জোনে ভাগ করে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে বাড়ির আঙিনা অপরিচ্ছন্ন থাকা কিংবা এডিস মশার প্রজননস্থল পাওয়া গেলে জরিমানা করার পাশাপাশি বাড়ির মালিকদের সতর্ক করা হচ্ছে।পরে প্রশাসক রূপসা ভেড়িবাঁধ এলাকার হাজী আবু হানিফ মাদরাসা ও এতিমখানা এবং টুটপাড়া তালতলা মাতৃসদন হাসপাতালে স্থাপিত মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের কোনো সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হলে দ্রুত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার আহ্বান জানান।কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সুবিধাজনক স্থানে এসব মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনকালে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, সমাজসেবক সাদিজুর রহমান সবুজ, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, মেহেদী হাসান সোহাগসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।কেসিসি প্রশাসনের দাবি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশক নিধন নয় পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসাসেবার আওতায় আনতে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।