জি,এম,ফিরোজ,ডুমুরিয়া
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও গাঁজা ও ‘বাবা’ মাদকের অবাধ বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। সন্ধ্যার পর পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন সড়ক, চায়ের দোকান, সেলুন, ভ্যান ও সাইকেলে করে মাদক বিক্রির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।সম্প্রতি শোলঘাতিয়া, রংপুর, সাহস, শরাফপুর, সন্ধ্যার পর রামকৃষ্ণ পুর থেকে রংপুর সড়ক জুড়ে, চুকনগর, মিকশিমিল, শলুয়া,ডুমুরিয়া সদর,কৃষ্ণনগর, বরুনা ও থুকড়া গ্রামের কয়েকজন গাঁজা সেবনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ গাঁজার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তাদের দাবি, আগে ৩০০ টাকার গাঁজা এখন ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এমনকি বেশি টাকা দিয়েও পরিমাণে কম দেওয়ার অভিযোগ করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গাঁজা সেবনকারী বলেন, “সারাদিন ১০০ টাকা কাজ করেছি। পরে আরও পাঁচজনের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নিয়ে মোট ৬০০ টাকায় গাঁজা কিনেছি। কিন্তু ছয় গ্রামের বদলে প্রায় এক গ্রাম কম পেয়েছি।”স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক বিক্রিতে কিছু পরিবারের নারী সদস্যও সহযোগিতা করছেন। কেউ সাইকেলে, কেউ ভ্যানে, আবার কেউ চায়ের দোকান কিংবা সেলুনকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে মাদক বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সড়কে প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা চলে বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক ব্যক্তি।এদিকে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ইন্সপেক্টর ফরহাদ হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করলাম। ডুমুরিয়া উপজেলায় মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। স্থানীয়রা সহযোগিতা করলে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।”স্থানীয়দের প্রশ্ন—মাদকের বিস্তার যদি এতটাই প্রকাশ্য হয়, তাহলে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান কোথায়? এলাকাবাসীর দাবি, শুধু অভিযান নয়, মাদকের উৎস ও সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।