এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরের খাঁন বীচ বিনোদন কেন্দ্রে ভ্রমন পিপাসুদের ভীড় যেন চোখে পড়ার মত। সড়কের দু-পাশ জুড়েই পানির শব্দ। ইউনিয়নের খাঁনঘোনা সড়কের পয়েন্টটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য বটে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্রমণ পিপাসুদের আনাগোনা। একটু স্বস্তি নিতে মৃদু হাওয়া শান্তির পরশ পেতে ছুটে যান ঐ সড়কের তীরে।বিশেষ করে, পড়ন্ত বিকেলে লোকারণ্য হয়ে যায় সড়কের দু’পাশ, সেটি স্থায়ী থাকে সন্ধ্যার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত। বিশুদ্ধ বাতাসও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ছুটে আসেন অসংখ্য ভ্রমনপিপাসু নরনারীরা। তাদের কেউ সড়কের তীরে বসে আড্ডা দেন, কেউবা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন, কেউ বেড়ানোর জন্য ঘেরের নৌকায় উঠে, আর কেউ মনের মানুষকে সাথে নিয়েই বৈকালিক সময়টা পার করে। উপজেলার নানান স্থান থেকে ছুটে আসা ভ্রমন পিপাসু লোকজনের উপস্থিতি যেন লক্ষ্যনীয়।আরও দেখা যায়, সড়কের দুই পাশের দৃষ্টিনন্দন চিংড়ি ঘেরের ছোট ছোট ঢেউ আর ডিঙ্গি নৌকা। মনোরম পরিবেশ ও ভাল লাগার জায়গা। বিকেলের পরপর সন্ধ্যার আগমুর্হুতে লোকজনে ভরপুর। সড়ক দিয়ে হেঁটে অপরূপ সৌন্দর্য্য অবলোকন করে ভ্রমনপিপাসুরা। শীতল বাতাস ও পানির কলকাকলী শব্দে দর্শনার্থীদের প্রাণ জুড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ে।২১ আগষ্ট (শুক্রবার) উক্ত খান বীচে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। সবখানে লোকে লোকারণ্য। চলাচলের কোন ব্যবস্থাও ছিলনা। দর্শনার্থীদের পাশাপাশি ৩/৪ চাকার যানবাহনের কারনে স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসু লোকজনরা যাতাযাতে নিদারুণ কষ্ট পেয়েছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।বেড়াতে যাওয়া জিয়া ও তাহের জানান, প্রায় প্রতিদিন লোকজনের আসা যাওয়া ইসলামপুরের বিনোদন কেন্দ্র খাঁন বীচে। বিশেষ ছুটির দিনগুলোতে থাকে উপচেপড়া ভিড়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, বৈকালিক সময়ে বিনোদনের মজার স্পর্ট খাঁন বীচ। এখানকার বিশুদ্ধ বাতাস কোথাও নেই। তাই মাঝে মধ্যে ঘুরতে আসা। স্থানটি দৃষ্টিনন্দন। গ্রাম্য বীচের মনোরম দৃশ্য আর বাতাস,চিংড়ি ঘেরের নৌকাসহ পানির কলকাকলীর শব্দ যেন ভুলার নয়। একবার নয়,বারবার ছুটে যেতেই মন চাই। সচেতন মহলের দাবী, সম্প্রতি বীচের জলাশয়ের পাড় ও পানির ওপর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা বেশ কিছু অস্থায়ী স্থাপনার কারনে বীচের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা কিংবা পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা না করে জলাশয়ে একের পর এক বাঁশের মাচা ও বসার ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে জলাশয়ের ওপর বাঁশের মাচা তৈরি প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও স্থাপনা গড়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পরিকল্পনাহীনভাবে নতুন স্থাপনা তৈরির সুযোগ বন্ধ করে খান বীচকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।ঘুরতে যাওয়া ফাহিম জানান,জনপ্রিয় খানবিচে নিরাপত্তার বেহাল দশা, যেখানে-সেখানে পার্কিং। আগত পযর্টকদের হাটা চলার সুযোগও নেই। প্রতি শুক্রবার (বন্ধের দিন) শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশী টহলের দাবী। একজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, খান বীচটি জেলায় সুপরিচিত লাভ করেছে। সু-শৃঙ্খলতা রক্ষার উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সু-নজরের মাধ্যমে বিবেচনা করবেন বলে আশাবাদী।