মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি এলাকায় আবারও এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মামুন মীর নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে উপজেলার নৈহাটি প্রতিবন্ধী স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম *মামুন মীর (৩০)। তিনি রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত নিয়ামত মীরের ছেলে।স্থানীয়রা জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মামুন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রথমে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে মামুন মীর নৈহাটি প্রতিবন্ধী স্কুলের সামনে দিয়ে নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একটি গুলি মামুনের শরীরে লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসতে দেখে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "গত কয়েক মাস ধরে নৈহাটি এলাকায় এ ধরনের হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। মানুষ এখন রাত হলেই আতঙ্কে থাকে।এ ঘটনার খবর পেয়ে রূপসা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কয়েকটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে গিয়েছি। গুলিবিদ্ধ যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।পুলিশের ধারণা, পূর্ব শত্রুতা বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলা হতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।এ ঘটনার পর নৈহাটি ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতের বেলা রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। এলাকাবাসী দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।