এম আবু হেনা সাগর,ঈদগাঁও
দিন বদলের যুগে ঈদগাঁও উপজেলার গ্রামীন জনপদ থেকে বিলুপ্তি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য লাঙ্গল, জোয়াল ও মইয়ের কৃষি জমির হালচাষ। চিরায়ত পদ্ধতি ছিল এসবের সাহায্য চাষাবাদ। এটি অনেক উপকারী পদ্ধতি। কারণ লাঙলের ফলা জমির অনেক গভীর অংশ পর্যন্ত আলগা করতো। গরুর পায়ের কারণে জমিতে কাদা হত অনেক এবং গরুর গোবর জমিতে পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি অনেক বৃদ্ধি করতো।একসময় গ্রাম-বাংলার স্বাভাবিক চিত্র ছিল গরুর সাহায্যে হালচাষ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ গরুর হাল বিলুপ্তির পথে। হালচাষের পরিবর্তে এখন ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়ে অল্প সময়ে জমি চাষ করা হয়। ৮/১০ বছর আগেও নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হালচাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত। হালের গরু দিয়ে দরিদ্র মানুষ জমি চাষ করে ফিরে পেতো তাদের পরিবারের সচ্ছলতা।আগেকার দিনে কাক ডাকা ভোরে কৃষক গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল কাঁধে নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়তো। এখন আর চোখে পড়েনা সে সোনালী দৃশ্য। জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যে পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চালাচ্ছে জমির চাষাবাদ। তাই গরু, লাঙল, জোয়াল, মই নিয়ে জমিতে হালচাষ এখন বিলুপ্তির পথে। মুরব্বি আহমদ হোসন ও ছব্বির জানান, আগে চাষের জন্য দরকার হতো এক জোড়া গরু, কাঠের সমন্বয়ে তৈরি লাঙ্গল, জোয়াল, মই ও গরুর মুখের লাগাম । গরু দিয়ে হালচাষ করলে জমিতে ঘাস কম হয়, ফসল ভালো হয়, জমির উর্বরতা বাড়ে। এখন আধুনিকতার ছোঁয়া গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সেসব মধু মাখা স্মৃতি। আজিম জানান, কৃষিকাজে লাঙ্গলের ব্যবহার পরিবেশ বান্ধব ও ঐতিহ্য বটে। একসময়ে পরিবারের সাথে কষ্ট হলেও গরু দিয়ে হালচাষ করতে ভাল লাগতো। ফিরে পাওয়া যাবেনা সে পুরনো দিন। এভাবে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য।কৃষক আলম জানান, বহুজনের জীবনে অধিকাংশই সময় কেটেছে চাষের লাঙ্গল জোয়াল আর গরুর পালের সঙ্গে। গরু দিয়ে হালচাষ করলে জমির জন্য ভাল হতো। বর্তমান যুগে পূর্বেকার দিনের সেসব ঐতিহ্যময় জিনিসের দিন শেষ। এখন যান্ত্রিকতার যুগে এ দেশ।