শেখ নাসির উদ্দীন, খুলনা:
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নায়েবে আমীর মাওঃ আব্দুল আউয়াল বলেছেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে জনগণ যাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দিয়েছে, তারা দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা প্রমাণ করে, তারা জনগণের মনোভাব বা ‘পালস’ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।বুধবার (৫ আগষ্ট) বিকাল ৪ টায় পাওয়ার হাউজ মোড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলার উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন আব্দুল আউয়াল বলেন, ভালো নেতৃত্ব ও সঠিক নীতির সমন্বয় ছাড়া জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক এবং অব্যবস্থাপনা দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আদর্শের বিকল্প নেই।তিনি আরও বলেন, শুধু ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো কর্মকাণ্ড ইসলাম সম্মত হয়ে যায় না। ইসলামের নামে অনৈতিকতা, বিশৃঙ্খলা বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা ইসলামের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।তিনি আরও বলেন, সরকারদলীয় হুইপের বক্তব্য অনুযায়ী যদি চাঁদাবাজি নির্মূল করা সম্ভব না হয়, তাহলে সরকারের দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন ওঠে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমছে।নায়েবে আমীর আরও বলেন, বর্তমান সংসদে কার্যকর বিরোধী দল নেই। বিরোধী দলগুলো জনগণের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারছে না। তবে ইসলামী আন্দোলন মাঠের বিরোধী দল হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। ইসলামের নামে বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড ইসলামের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। তাই সঠিক ইসলামী চর্চার আহ্বান জানাই।তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে তাদের কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি সংগঠনটি পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং বেকার যুবকদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মুফতী ইমরান হোসাইন এর সভাপতিত্বে ও নগর সেক্রেটারী মাওঃ দীন ইসলাম, জেলা সেক্রেটারী মোঃ শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, আলহাজ্ব আবু তাহের, হাফেজ আব্দুল লতিফ, মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, মাওঃ সাইফুল ইসলাম ভূইয়া, মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, মোঃ হুমায়ুন কবির, ফেরদৌস গাজী সুমন, মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, বীর মুক্তিযুদ্ধা জিএম কিবরিয়া, মোঃ মঈন উদ্দিন ভূইয়া, আলহাজ্ব মারুফ হোসেন, এইচ এম আরিফুর রহমান, মাওঃ নাসিম উদ্দিন, গাজী মিজানুর রহমান, মোঃ কবির হোসেন হাওলাদার, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, মাওঃ আব্দুস সামাদ, শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, আব্দুল্লাহ নোমান, মোঃ মঈন উদ্দিন, আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, মো: নুরুজ্জামান বাবুল, মোঃ বাদশাহ খান, বন্দ সরোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব আবুল কাশেম, আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম টুটুল মোড়ল, মোঃ শহিদুল ইসলাম সজিব, মোঃ মিরাজ মহাজন, মাওঃ সিরাজুল ইসলাম, শেখ সেলিম, আলফাত হোসেন লিটন, মাওঃ মাসুম বিল্লাহ, নাজিম হাওলাদার নাঈম, কাজী তোফায়েল, মোঃ মনজুরুল ইসলাম, আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের জি এম এমদাদুল হক, মোঃ নিজাম উদ্দিন মল্লিক, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের মৌলভী আলামিন গাজী, মোঃ পলাশ শিকদার, ইসলামী যুব আন্দোলনের আব্দুর রশিদ মমিন ইসলাম নাসিব, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের হাবিবুল্লাহ মেজবাহ, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ সাব্বির আহমেদ, মোঃ হাবিবুল্লাহ প্রমুখ। সমাবেশ শেষে এক বিশাল গণ-মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।