মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "এসএসসি-এইচএসি সনদ বাধ্যতামূলক" মর্মে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা ও সচেতন মহল।সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার করা হচ্ছে, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি পাস বাধ্যতামূলক। এমনকি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে বলেও দাবি করা হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে *নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার* স্পষ্ট করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি জানান, হাইকোর্টের রুলটি পর্যালোচনা করার পর বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর আইন এবং এ-সংক্রান্ত আদালতের আগের রায় বা নির্দেশনা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।কমিশনার আরও বলেন, বর্তমানে কার্যকর আইনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য এইচএসসি কিংবা স্নাতক পাস বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে ইউপি সদস্য পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে, এমন কোনো বিধানও নেই। ফলে নির্বাচন কমিশনের সচিবের বরাতে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া বলে জানিয়েছে ইসি।বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু বদমায়েশ এই ভুয়া পোস্ট করে জনগণকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও যোগ্য প্রার্থীদের দমিয়ে রাখতেই তারা এ অপকর্ম করছে। তারা অবিলম্বে গুজবকারীদের শনাক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুযায়ী বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী হতে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের যোগ্যতা রয়েছে।