ডেস্ক :
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে বাতিল চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, চাকরি থেকে অবসরের পর বিএনপির বিশেষায়িত কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এ কর্মকর্তার নিয়োগ চরম প্রতারণা। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জামায়াতে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ সব কথা বলেছেন।গত ২৩ জুলাই সামসুল আলমকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেয় সরকার। তিনি ইসি সচিবালয়ের উপসচিব হিসেবে ২০১৮ অবসরে যান। গত বছর আগস্টে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপির আসন পুনর্বিন্যাস কমিটিতে সদস্য ছিলেন সামসুল আলম। তিনি গত সোমবার সমকালকে বলেছেন, কমিটিতে থাকলেও এখন আর বিএনপি করেন না। দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে তিনি নিরপেক্ষ ব্যক্তি। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলম বিএনপির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম প্রতারণা। এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একজন অতিরিক্ত সচিব নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন। বিএনপি নেতাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। অবিলম্বে সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক সংস্থায় দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’। বর্তমানে এই নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিএনপি নেতাদেরও নিয়োগের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মেধা নয়, দল দেখে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।