নাজমুস সাকিব, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়:
বাংলাদেশে মাছ চাষের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা বিভিন্ন সংক্রামক রোগ। এর মধ্যে মাছের ক্ষতরোগ একটি মারাত্মক রোগ, যা অল্প সময়ে ব্যাপক মাছের মৃত্যু ঘটিয়ে খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।Aphanomyces invadans* নামের জলজ ছত্রাক এ রোগের প্রধান কারণ। পুঁটি, কৈ, শোল, টাকি, শিং, মাগুরসহ বিভিন্ন কার্পজাতীয় মাছ এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে শীত মৌসুমে, পানির তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেলে, পানির গুণগত মানের অবনতি, পুকুরের তলদেশে অতিরিক্ত জৈব পদার্থ জমা এবং মাছের অতিরিক্ত মজুদের কারণে রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে।রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে মাছের শরীরে ছোট ছোট লাল দাগ, অতিরিক্ত ছুটাছুটি, খাবারে অনীহা ও শরীরের স্লাইম কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। পরবর্তীতে এসব দাগ গভীর ক্ষতে পরিণত হয়, আঁশ উঠে যায় এবং মাছ দুর্বল হয়ে মারা যেতে পারে।রোগ দেখা দিলে দ্রুত পানির গুণগত মান উন্নত করা, আংশিক পানি পরিবর্তন, অনুমোদিত মাত্রায় লবণ ও জীবাণুনাশক প্রয়োগ এবং আক্রান্ত মাছের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মাছের বহিঃপরজীবী নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চমানের খাদ্য সরবরাহ করা জরুরি।রোগ প্রতিরোধে প্রতি বছর পুকুর শুকিয়ে তলদেশের কালো কাদা অপসারণ, পুকুর প্রস্তুতি সঠিকভাবে সম্পন্ন, পর্যাপ্ত পানির গভীরতা বজায় রাখা, নিয়মিত হররা টানা, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, জৈব নিরাপত্তা ও উত্তম মৎস্যচাষ পদ্ধতি অনুসরণ করলে মাছের ক্ষতরোগের প্রাদুর্ভাব ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।