প্রতিনিধি, কয়রা
খুলনার কয়রা উপজেলায় দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাসের ভিত্তিতে ঝুঁকি কমাতে এবং ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে ‘প্রোটিস্থা’ নামে একটি নতুন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের আয়োজনে একটি প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা ও বজ্রপাতের মতো দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাসের ব্যবস্থা আগের তুলনায় উন্নত হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো জীবন ও জীবিকা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নেয় না। এ ব্যবধান দূর করতে পূর্বাভাসের সঙ্গে আগাম প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও দ্রুত পদক্ষেপকে সমন্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন উত্তরণের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. রেজাউন উল্লাহ। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা সংস্থা ডিজি ইকো এর অর্থায়নে ২০২৬ সালের মে থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ২৩ মাস মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এর আওতায় ৮৭ হাজার ৬০৪ জন প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। উত্তরণ খুলনার কয়রা, সাতক্ষীরার আশাশুনি, বাগেরহাটের শরণখোলা, পিরোজপুরের জিয়ানগর এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মধ্যে কয়রা ও জিয়ানগর নতুন কর্মএলাকা হিসেবে যুক্ত হয়েছে।সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্থানীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন, মহড়া, আশ্রয়কেন্দ্র ম্যাপিং, বাঁধ ও সড়ক মেরামতসংক্রান্ত সমন্বয় সভা এবং স্বেচ্ছাসেবক ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আকস্মিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ‘ক্রাইসিস মডিফায়ার’ তহবিল থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারপ্রতি ৬ হাজার ৮০ টাকা শর্তহীন নগদ সহায়তা, খাদ্য ও রেইনকোট দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের মাঠকর্মী তানিয়া সুলতানার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার সরকার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাবির, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান।বক্তারা বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে কমিউনিটিভিত্তিক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা দরকার। এর মাধ্যমে দুর্যোগের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে।সভায় উপস্থিত ছিলেন, কয়রা বড়বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবীর, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তাপস সরকার, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, উত্তরণের মনিটরিং কর্মকর্তা মো. আলামিন মোল্লাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।