এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
ঈদগাঁও উপজেলার বৃহৎ মাইজপাড়া খালের উপর নির্মিত সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মার্মা। একই সঙ্গে খালের দুই পাশে ময়লা- আবর্জনা না ফেলার আহবান জানিয়ে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। (মঙ্গলবার) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেইজবুক পেজে প্রকাশিত নির্দেশনায় তিনি এসব কথা জানান। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি অতিবৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতার কারণে ইউএনও মংচিংনু মার্মা, পিআইও, ডিপিএইচইও এবং ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী মাইজপাড়া খাল পরিদর্শন করেন। প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং (জাগিরপাড়া-উত্তর ও মধ্যম মাইজ পাড়া, দক্ষিণ মাইজ পাড়া) ওয়ার্ড জুড়ে বিস্তৃত। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে খালটি খননের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান ইউএনও। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত খনন কাজ শুরু করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়, সে জন্য খালের উপর নির্মিত সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা দখলদারদের নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে হবে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদারকে খালের সীমানা চিহ্নিত করে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খালের উভয় পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহবান জানান ইউএনও। পাশাপাশি চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রতিটি পরিবারকে অন্তত ১০টি করে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখারও আহবান জানানো হয়। উল্লেখ্য, দীর্ঘবছর ধরে মাইজ পাড়ার বাইন্যা খাল বর্তমান (ভরাখাল)টি দখল বেদখলের কারনে পানি চলাচলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। অল্প বৃষ্টিতেও পানি সুষ্ঠুভাবে চলাফেরা করতে না পারায় খালের পাশ্ববর্তী বাড়ীঘরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পড়ে। যার কারনে গ্রামের লোকজনের হাঁটাচলা অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিল। এমনকি ঐতিহ্যবাহী খালটি খননের দাবী জানিয়ে স্থানীয়, বিভাগীয় ও জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন অনলাইনে একাধিক বার সংবাদ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানান দেওয়া হয়েছে। খালটি খননের মাধ্যমে এবার বৃহত্তর এলাকাবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। ভরাখাল খননের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন এলাকার লোকজন।