মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
খুলনা নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ১৬ বছরের কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে নিহতের বাবা ও মা দুজনেই হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।ঘটনার সূত্রপাত-গত ০৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে খুলনা সদর থানাধীন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩নং রোড থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি এক অজ্ঞাতনামা কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা সদর থানা পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তাৎক্ষণিক তদন্তে নেমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের পরিচয় আরফানা হোসেন নির্জনা ১৬ হিসেবে শনাক্ত হয়।তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার তথ্য উদঘাটিত হয়। এর ভিত্তিতে নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।এরপর পলাতক প্রধান আসামি ও নিহতের পিতা মো. আলীম হোসেন আকাশ ৪০ কে গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত থাকে। অবশেষে ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে খুলনা সদর থানা পুলিশ ও র্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকাশও হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আদালতে প্রেরণ করা হলে তিনিও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।খুলনা সদর থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বহুল আলোচিত নির্জনা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং উভয় আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে তারা। পারিবারিক কলহই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে তদন্তে উঠে এসেছে।