খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধিঃ
জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে প্রতারণা, জোরপূর্বক টাকা ছিনিয়ে নেওয়া,প্রতারণা এবং টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। সাথী আক্তার নামের ঐ নারী এ ঘটনায় গত ৯ জুলাই খুলনার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা করেছেন।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সাথী আক্তার অভিযোগ করেন, দিঘলিয়া উপজেলার বাসিন্দা মনিরা খানমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্রে ২০২২ সালে দিঘলিয়ার দেবনগর মৌজায় আড়াই শতক জমি ও দুই তলা ভবনসহ একটি সম্পত্তি কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়। সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা। বিভিন্ন সময়ে তিনি মনিরা খানমকে মোট ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং পরে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি জমিটি তার নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য তাকে পাঁচ বছর সময় দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।ভুক্তভোগীর দাবি, জমি রেজিস্ট্রির পর থেকেই মনিরা খানম বিভিন্নভাবে অতিরিক্ত টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এর মধ্যে চাকরি হারানোর পর ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল তার বাসায় গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে মনিরা খানম তার ভাইয়ের নামে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে স্ট্যাম্পে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ধাপে ধাপে তাকে মোট ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ১ লাখ ও পরে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ৮ জুলাই দিঘলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাজারের সামনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। এ সময় তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে ও তার স্বজনদের মারধর করা হয়। পরে দিঘলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে। সেখানে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করে, টাকাটি তাদের পাওনা ছিল। একপর্যায়ে চাপের মুখে ভুক্তভোগীকে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এখনও তার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎ হওয়া অবশিষ্ট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।