এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ার আলোচিত আরিফ শেখ হত্যা মামলায় নির্দোষ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও তাদের অবিলম্বে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনপক্ষের এক নারী। এ দাবিতে রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোছাঃ শিশির আক্তার।লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার শ্বশুর মোঃ আব্দুল খালেক (বাদল) একজন ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তি। তার স্বামী মোঃ তরিকুল ইসলাম (তারেক) ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত এবং দেবর মোঃ আকাশ বগুড়া নিউ মার্কেটের আলী পাঞ্জাবী হাউজে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।তিনি জানান, নিহত আরিফ শেখ তার শ্বশুরের বোনের ছেলে হওয়ায় পারিবারিকভাবে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, আরিফ শেখের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জমি দখলসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন ছিল এবং তিনি আলোচিত বনি হত্যা মামলারও এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ছিলেন।শিশির আক্তার বলেন, গত ১০ জুলাই দিবাগত রাতে বগুড়া মহানগরের লতিফপুর এলাকায় আরিফ শেখ নিহত হন। ঘটনার সময় তার অসুস্থ শ্বশুর বাড়িতে শয্যাশায়ী ছিলেন, স্বামী ঢাকায় কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন এবং দেবর নিজ বাসায় ছিলেন। তাদের কেউই ওই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন না কিংবা ঘটনায় কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।তিনি অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পরদিন রাত প্রায় ২টার দিকে বগুড়া সদর থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তার শ্বশুর আব্দুল খালেক ও দেবর আকাশকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের বগুড়া সদর থানার মামলা নং-৬৩, তারিখ ১১/০৭/২০২৬, জিআর নং-৫৮০/২০২৬ (সদর)-এর এজাহারভুক্ত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর আসামি করা হয়। একই মামলায় তার স্বামী তরিকুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, "আমার শ্বশুর, স্বামী ও দেবর সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর কারণে আমাদের পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় আমি, আমার শাশুড়ি, ননদ এবং ছোট সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।"তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথ বাহিনী, র্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আরিফ শেখ হত্যা মামলার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করে অবিলম্বে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান।তবে এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বা বগুড়া সদর থানার পুলিশের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।