বিএম আলামিন ইসলাম , কয়রা (খুলনা)
বর্তমানে প্রজনন মৌসুম চলায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশসহ সব ধরনের পাস-পারমিট বন্ধ রয়েছে। বনের পরিবেশ শান্ত রাখতে যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ, ঠিক তখনই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শত শত কেজি মাছ উজাড় করছে এক শ্রেণীর অসাধু জেলে ও বিষদস্যু চক্র। তবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বন বিভাগ।এরই ধারাবাহিকতায় পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে বিষ দিয়ে মাছ শিকারী চক্রের বিরুদ্ধে গভীর রাতে এক দুঃসাহসিক ও ঝুঁকিপূর্ণ যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে বিষ দিয়ে শিকার করা আনুমানিক ১৫০ কেজি চিংড়ি মাছ ও একটি নৌকা জব্দ করেছে বন বিভাগ।শনিবার দিবাগত রাতে (১২ জুলাই, ২০২৬) রাত আনুমানিক ১২:৪০ ঘটিকায় স্মার্ট খুলনা-১' টিমের টিম লিডার মোঃ শাহিনুর রহমানের নেতৃত্বে এবং কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন ও বজবজা ক্যাম্পের সহযোগিতায় এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের আওতাধীন জোড়শিং পল্টন সংলগ্ন হারেজখালি গ্রামের পাড় নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকেই বিষযুক্ত চিংড়ি ও অপরাধে ব্যবহৃত নৌকাটি উদ্ধার করা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, সুন্দরবন বন্ধ থাকার এই সময়ে বনের ভেতরে এক ধরণের নীরবতা কাজ করে, যার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে অসাধু চক্রটি। ঘটনাস্থলটি লোকালয়ের একদম কাছাকাছি হওয়ায় এবং রাতের গভীরতা বেশি থাকায় অভিযানটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিষপ্রয়োগকারী চক্রের সদস্যরা লোকালয়ে পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসকারী এই অপরাধীদের শনাক্ত করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, সুন্দরবন বন্ধের এই সময়ে যেখানে পর্যটনসহ সব ধরনের প্রবেশাধিকার নিষেধ, সেখানে অসাধু জেলেরা গোপনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। লোকালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এই অভিযানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা পালিয়ে গেলেও আমরা বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত চিংড়ি ও নৌকাটি জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি।স্মার্ট টিমের টিম লিডার মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, জব্দকৃত বিষাক্ত চিংড়ি মাছগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এই মাছগুলো বিজ্ঞ আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে মাটি চাপা দিয়ে নষ্ট (ধ্বংস) করে দেওয়া হবে। বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, এর বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে এমন কঠোর ও আপসহীন অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।