কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:বিএম আলামিন ইসলাম
সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ সময়ে নদী ও সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি গোপনে শিকার চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে মাছ ও কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজননও হুমকির মুখে পড়ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদী ও খালে মাছ এবং কাঁকড়া ধরলে তাদের স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।সচেতন মহলের দাবি, কিছু অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিস্বার্থে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করছেন। এতে আইন মেনে চলা জেলেরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিষিদ্ধ সময়ে অভিযান আরও জোরদার করা, নদীপথে নিয়মিত টহল পরিচালনা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ আইন অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা শতভাগ মেনে চলা সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।