মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম :
খুলনা আইনজীবী সমিতির বারবার নির্বাচিত সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খুলনা জেলা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এম মুজিবুর রহমানকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আজ নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।বুধবার ৮ জুলাই ২০২৬ এর দুপুরে খুলনার সংশ্লিষ্ট আদালতে অ্যাডভোকেট এম এম মুজিবুর রহমান আত্মসমর্পণ করেন। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন। আত্মসমর্পণের পর শুনানি শেষে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে কড়া পুলিশ প্রহরায় খুলনা জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।অ্যাডভোকেট এম এম মুজিবুর রহমান খুলনার আইনাঙ্গনে সুপরিচিত মুখ। তিনি খুলনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের জন্য আইন জীবীদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি (নিষিদ্ধ ঘোষিত - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) এর খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি ও আইন পেশার সাথে যুক্ত।তার জেলহাজতে প্রেরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় জমে। অনেকেই তার মুক্তির দাবি জানান।নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা। তারা দ্রুত তার মুক্তির জন্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।আইনজীবী সমিতির একাধিক সদস্য জানান, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তার অনুপস্থিতিতে আইনজীবী সমিতির কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উচ্চ আদালতে জামিনের বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ এই আইনজীবীর জেলহাজতে যাওয়ার ঘটনায় খুলনার রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।